সরিষার ভেতরেই ভুত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ভেতরেই দুর্নীতিবাজ এবং ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তাদের ছড়াছড়ি। ৯ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শেষ না হতেই আরো ১২ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধার পোষ্য কোটায় দুদকের ১২ কর্মকর্তার জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরির অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আর ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার পোষ্য কোটায় চাকরি পাোয়া ওই কর্মকর্তারা বর্তমানে দুদকের প্রধান কার্যালয়, সমন্বিত জেলা কার্যালয় এবং বিভাগীয় কার্যালয়ের বিভিন্ন শাখায় কর্মরত বলে জানা যায়।
দুদকের উপ-পরিচালক মোঃ জুলফিকার আলী এ জালিয়াতির বিষয়টি অনুসন্ধান শুরু করেছেন।
দুদক সুত্র জানায়, গত কয়েকবছরে দুদকে প্রায় ৭২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারির বিভিন্ন পদে চাকরি হয়। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ নিয়োগ বিধি অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধা-পোষ্য কোটায় চাকরি পেয়েছে। আর এ কোটায় চাকরি পেয়েছেন ১২ কর্মকর্তা।
চাকরি পাওয়া এসব কর্মকর্তাদের কেউ পিতা, কেউ দাদা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন-মর্মে রেকর্ডপত্র দাখিল করেন। দাখিলকৃত রেকর্ডে মুক্তিযোদ্ধা সনদের জাল কাগজপত্র ছিলো বলেও অভিযোগ রয়েছে। নিয়োগকালে দাখিলকৃত কাগজপত্র যাচায়ের জন্য অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার পোষ্য দুদকের ১২ কর্মকর্তারা হলেন, সহকারি পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান,ফারুক আহমেদ, মোঃ আতিকুল আলম, জুয়েল আহমেদ, মঈনুল হাসান, এহসানুল কামরান তানভীর, আতিকুর রহমান, মোঃ শাওন মিয়া, নাজমুল আহসান, উপ-সহকারি পরিচালক মাহফুজ ইকবাল, নিয়ামুল আহসান গাজী এবং মোঃ সাইদুজ্জামান।
এছ্ড়াগত ২২ অক্টোবর থেকে দুদকের মহা পরিচালকসহ দুদকের ৯ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করেছন দুদক কর্মকর্তা মো. জুলফিকার আলী।
আর দুদকের ৯ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে রয়েছেন, মহাপরিচালক (ডিজি) কামরুল হোসেন মোল্লাহ, পরিচালক গোলাম ইয়াহিয়া, পরিচালক আবদুল আজিজ ভূঁইয়া , উপ-পরিচালক ঢালী আবুদস সামাদ, উপ-পরিচালক এস এম গোলাম মাওলা সিদ্দিকী ও সাবেক উপ-পরিচালক রঞ্জন কুমার মজুমদার, সহকারী পরিদর্শক আবদুস সোবহান, কোর্ট সহকারী ( পুলিশের এএসআই) নুরুল ইসলাম ও কোট সহকারী পুলিশের এ এসআই ইসহাক ফকির।
ইতোমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে দুদক পরিচালক গোলাম ইয়াহিয়া ২ বছর চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করেন। ইতোমধ্যে তার এক বছর অতিরিক্ত চাকরি করেছেন সেই সঙ্গে আরও সুবিধা অনুযায়ী নিচ্ছেন।
তবে গত ২ নভেম্বর ভুয়া মুক্তিযোদ্ধ মহাপরিচালক কামরুল হোসেন মোল্লাহ, পরিচালক গোলাম ইয়াহিয় স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অব্যাহতির আবেদন জানিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যানের দফতরে।
এ ব্যাপারে দুদকের সচিব মো. মাকসুদুল হাসান খান আজ বৃহস্পতিবার এক দুদকের মাসিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন,দুদক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির অভিযোগ অনুসন্ধান চলছে। আর এ অনুসন্ধান শেষ না হওয়ার আগে কিছু বলা যাবে না।
একে





