সারাদেশে তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধে গত রাতেই ১১ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সোমবার (২২ মে) রাত থেকে আজ (মঙ্গলবার) সকালের মধ্যে ৯ জেলায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও পুলিশের সঙ্গে এসব ‘বন্দুকযুদ্ধের’ঘটনা ঘটে।
এর মধ্যে কুমিল্লার অরণ্যপুরে ২জন, নীলফামারিতে ২জন এবং নেত্রকোনা, নারায়ণগঞ্জ, ফেনীর লেমুয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা, দিনাজপুর, চট্টগ্রামের বায়েজিদে ১জন করে নিহত হয়েছে।র্যাব ও পুলিশের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, নিহতরা সবাই মাদক ব্যবসায়ী। ‘বন্দুকযুদ্ধের’সময় অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকে প্রতি রাতেই কথিত মাদক ব্যবসায়ীরা তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ অভিযান চলবে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা গেছে, গত ১সপ্তাহে সারাদেশে ২২ ব্যক্তি ‘বন্দুকযুদ্ধে’নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত রোববার ৪ জন এবং গতকাল সোমবার ৯ জনসহ মোট ১৩ জন নিহত হয়েছেন।
এছাড়া, গত ১৫ মে দু’জন, ১৭ মে তিনজন, ১৮ মে একজন, ১৯ মে তিনজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে আজ (মঙ্গলবার) আরও ১১ জন নিহতের খবর এল।
চট্টগ্রাম: মহানগরীর বায়জিদ এলাকায় র্যাবের র্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে শুক্কুর আলী (৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। আজ (মঙ্গলবার) ভোরে বায়জিদ থানাধীন ডেবারপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র-গুলি ও মাদক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, বায়জিদ থানাধীন ডেবারপাড় এলাকায় মাদকের একটি বড় চালান আসছে এমন খবর পেয়ে র্যাব-৭ একটি দল ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় র্যাব সদস্যরা মাদক ব্যবসায়ীদের থামার সংকেত দিলে তারা গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষায় র্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। গুলিতে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী শুক্কুর আলী গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বিরুদ্ধে ১০টি মাদকের মামলা রয়েছে।
নেত্রকোনা: সদর উপজেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’আমজাদ হোসেন (৩২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গতকাল (২১ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার বড়াইল বালুঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছে পুলিশ।
সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফকরুজ্জামান জুয়েল দাবি করেন, নেত্রকোনা পৌর শহরের পশ্চিম নাগড়া এলাকা থেকে গতকাল গভীর রাতে মাদক ব্যবসায়ী খুন-রাহাজানিসহ ১৫ মামলার আসামি আমজাদ হোসেনকে আটক করে পুলিশ। তিনি ওই এলাকার আলী হোসেনের ছেলে। এ সময় তাঁর বাসায় তল্লাশি চালিয়ে ৩০০ ইয়াবা ও ৫০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, পরে আমজাদকে নিয়ে বড়াইলে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে গেলে সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে। পুলিশও পাল্টা গুলি করে। এ সময় আমজাদ গুরুতর আহত হন। তাঁকে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও দাবি করেন, এ সময় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বোরহান উদ্দিন, উপপরিদর্শক (এসআই) মকবুল হোসেন, এসআই মহসীন, এসআই আবদুল্লাহ, কনস্টেবল মালেক আহত হন।
ওসি বোরহান উদ্দিনের ভাষ্য এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ১টি বিদেশি পাইপগান এবং ৫টি কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আমজাদের বিরুদ্ধে তিনটি হত্যা, পাঁচটি মাদক মামলাসহ ১৫টি মামলা রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা: আলমডাঙ্গা উপজেলায় তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধে কামরুজ্জামান সাধু নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।
গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলা শহরের রেলস্টেশনের পেছনে এ ‘বন্দুকযুদ্ধের’ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছেন আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ মো. ফখরুল আলম খান।
নিহত কামরুজ্জামান সাধু (৪৫) উপজেলার হারদী গ্রামের মৃত এমদাদুল হকের ছেলে।
‘বন্দুকযুদ্ধ’নিয়ে ওসি আবু জিহাদ মো. ফখরুল আলম খানের ভাষ্য হচ্ছে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কলিমুল্লাহর নেতৃত্বে আলমডাঙ্গা থানার পুলিশ বিশেষ অভিযানে বের হয়। পুলিশের গাড়ি আলমডাঙ্গা রেলস্টেশনের কাছে পৌঁছলে হঠাৎ সেই গাড়িতে সন্ত্রাসীরা গুলি করে। পুলিশও পাল্টা গুলি করে। সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন পড়ে ছিলেন। পরে তাঁকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয়রা এসে কামরুজ্জামান সাধুকে সনাক্ত করেন।
ওসির আরও দাবি, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তিনটি গুলি, একটি দেশি পিস্তল ও এক বস্তা ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। বন্দুকযুদ্ধে এসআই জিয়া, এসআই হামিদ, কনস্টেবল মাসুদ ও রাকিব আহত হয়েছেন। তাদেরকে রাতেই চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কামরুজ্জামান সাধু পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদকব্যবসায়ী। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় ছয়টি মামলা রয়েছে। একটি মামলায় তিনি তিন বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন।
কুমিল্লা:কুমিল্লা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও থানা পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে শরীফ ও পিয়ার নামে তালিকাভুক্ত শীর্ষ ২ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। সোমবার (২১ মে) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে জেলা সদরের অদূরে বিবিরবাজার অরণ্যপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দুই রাউন্ড গুলিসহ একটি রিভলবার, একটি পাজারো জিপ, ৫০ কেজি গাঁজা এবং ৫০০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানকালে কোতয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) রূপকুমারসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে মো. শরীফ জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার মহেষপুর গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ৫টি মাদক মামলা রয়েছে। অপর নিহত পিয়ার আলী আদর্শ সদর উপজেলার শুভপুর গ্রামের আলী মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে ১৩টি মাদকের মামলা রয়েছে।
কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া জানান, সীমান্ত এলাকা থেকে মাদকের একটি বড় চালান আসছে গোপন সূত্রে এমন খবর পেয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তানভীর সালেহীন ইমনের নেতৃত্বে থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের একাধিক টিম ওই এলাকায় অবস্থান নেয়।
রাত পৌনে ১টার দিকে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। গুলিতে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী শরীফ (২৬), পিয়ার আলী (২৮) ও সেলিম গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তার মাদক ব্যবসায়ী শরীফ ও পিয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: বাঞ্ছারামপুরে র্যাব-১০ এর সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী ধন মিয়া নিহত হয়েছেন।
ফেনী: সদর উপজেলার লেমুয়া এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে র্যাব-৭ এর আভিযানিক দলের গুলিবিনিময় হয়। বন্দুকযুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী ও ইয়াবার গডফাদার মো. মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু (৪৯) মারা যান।
নেত্রকোনা: শহরের নাগড়া পশ্চিম পাড়ার আমজাদ হোসেন নামে এক মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন। এ সময় ওসি বোরহান উদ্দিনসহ ৫ পুলিশ আহত হন। সদর উপজেলার বড়োয়ারী গ্রামে সোমবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।
আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ): র্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে বাচ্চু খান (৩৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। র্যাবের দাবি, এসময় উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমান ইয়াবা ট্যাবলেট ও বিদেশি অস্ত্র।
আজ (মঙ্গলবার) সকালে আড়াইহাজারের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শিমুলতলী এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। বাচ্চু রাজধানী ঢাকার উত্তরখান এলাকার আশরাফ খানের ছেলে। র্যাব-১ এর কোম্পানি কমান্ডার আনোয়ার হোসেন ও আড়াইহাজার থানার ওসি এমএ হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সৈয়দপুর (নীলফামারী): গোলাহাট বধ্যভূমি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ২ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- শহরের নিচু কলোনি এলাকার জনী (৩৪) ও ইসলামবাগ এলাকার শাহিন (৩২)। সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বিরামপুর (দিনাজপুর): পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী প্রবাল হোসেন (৩৫) নিহত হয়েছেন।
ওসি আব্দুস সবুর জানান, উপজেলার মনিরামপুরে দিবাগত রাত ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে ৩ রাউন্ড গুলিসহ বিদেশি পিস্তল, ৫টি ককটেল, একটি সামুরাই ও ৯২ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। প্রবালের বিরুদ্ধে ৮টি মাদক মামলা রয়েছে।
এমবি





