মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের রায় যেকোনো দিন দেয়া হবে।

বুধবার মামলার সর্বশেষ ধাপ যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপনের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারেও পাঠিয়ে দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার রাষ্ট্রপক্ষের জবাব ও সমাপনী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম।

এর মধ্য দিয়ে শেষ হয় কায়সারের মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া। পরে মামলার রায় যেকোনো দিন দেওয়া হবে জানিয়ে অপেক্ষমাণ রেখে দেন চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল।

গত ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ও বুধবার মোট ৬ কার্যদিবসে কায়সারের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, জেয়াদ আল মালুম ও তাপস কান্তি বল।

অন্যদিকে গত ৭ আগস্ট থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত ৭ কার্যদিবসে কায়সারের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন তার সিনিয়র আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও আব্দুস সোবহান তরফদার।

গত ৯ মার্চ থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত কায়সারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) মনোয়ারা বেগমসহ রাষ্ট্রপক্ষের ৩২ জন সাক্ষী।

আর জব্দ তালিকার ৩ সাক্ষী হচ্ছেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়কের ব্যক্তিগত সহকারী মো. নুরুল ইসলাম, মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের ডকুমেন্টেশন অফিসার আমেনা খাতুন ও তদন্ত সংস্থার লাইব্রেরিয়ান মো. আনিসুর রহমান। তাদেরকে জেরা করেছেন আসামিপক্ষ।

অন্যদিকে আসামিপক্ষ কোনো সাফাই সাক্ষী হাজির করতে পারেননি।

গত ৪ মার্চ কায়সারের বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম।

গত ২ ফেব্রুয়ারি সৈয়দ কায়সারের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। কায়সারকে গণহত্যার একটি, হত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের ১৩টি এবং ধর্ষণের দুটিসহ মোট ১৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

গত বছরের ১৪ নভেম্বর কায়সারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। ১০ নভেম্বর রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে ২ হাজার ৪শ’৪৭ পৃষ্ঠার এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, জেয়াদ আল মালুম, তাপস কান্তি বল ও রেজিয়া সুলতানা চমন।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ১৮টি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্য থেকে ১৬টি অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হয়।

গত বছরের ২১ মে বিকাল পৌনে চারটায় সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারকে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে গ্রেফতার করে হাজির করা হলে ট্রাইব্যুনাল তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। এর আগে ১৫ মে প্রসিকিউশনের আবেদনের ভিত্তিতে কায়সারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।

ঢাকা, কেএ, ২০ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেএ