রাজধানীর গোপীবাগে চাঞ্চল্যকর সিক্স মার্ডারের এক বছর অতিবাহিত হলেও উদঘাটন হয়নি হত্যার রহস্য। শুধু উগ্রপন্থী ধর্মীয় সংগঠন হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত এমন সন্দেহে ঘুরপাক খাচ্ছে মামলার তদন্ত।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৪ জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে নিয়েও কোনো তথ্য পায়নি মামলার তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
তবে ডিবি পুলিশ বলছে, এই হত্যাকান্ডের সাথে জঙ্গি সংগঠন জেএমবি জড়িত। কথিত পীর লুৎফর রহমান ফারুকের সাথে মতাদর্শগত দ্বন্দ্বের জেরে এই হত্যাকান্ড ঘটেছে।
একবছরেও ৬ হত্যাকান্ডের খুনিরা গ্রেফতার না হওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন নিহতের ছেলে আব্দুল্লাহ আল ফারুক। তার দাবি, ঘটনার দিন খুনিরা তাঁর খোঁজও করেছিল বলে আতঙ্কে রয়েছেন তিনি। শিগরিরি খুনিরা গ্রেফতার না হলে যে কোনো সময় তার ওপরও হামলা হতে পারে।
২০১৩ সালের ২১ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর গোপীবাগের ৬৪/৬ নম্বর বাড়ির দোতলায় খুন হন কথিত পীর লুৎফর রহমান ফারুক, তার বড় ছেলে সারোয়ার ইসলাম ফারুক, অনুসারী মঞ্জুরুল আলম, মো. রাসেল, মো. শাহিন এবং মজিবুর সরকার।
হত্যাকান্ডের ঘটনায় লুৎফর রহমানের বেঁচে থাকা ছোট ছেলে আবদুল্লাহ আল ফারুক অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করে ওয়ারী থানায় একটি মামলা করেন।
ডিবি পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ছয়জনকে গলাকেটে হত্যার পর তদন্ত নিয়ে থানা পুলিশ শুরুতেই হিমশিম খায়। এরপর মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্তের দায়িত্ব পায়।
মামলা দায়েরের পর বেশ কয়েকজনকে আটক করে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করে ডিবি পুলিশ। তবে কেউই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেনি।
চলতি বছরের ২৪ সেপ্টেম্বরে গোপীবাগ সিক্স মার্ডারের ঘটনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা'আতুল মুজাহিদীনের (জেএমবি) ৪ সদস্যকে গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দা পুলিশ(ডিবি)।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, জেএমবি সদস্য গোলাম সারওয়ার রাহাত, আজমির অমিত, সৈয়দ জিয়াউল ইসলাম জিতু ও আল আমিন। ভিন্ন ঘটনায় গত মার্চে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
দুই দফায় ছয় দিনের রিমান্ডে নিয়েও এ হত্যাকাণ্ডের রহস্যের কূলকিনারা উদঘাটন হয়নি বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ছয় খুনের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের (পূর্ব) পরিদর্শক মোঃ আবু আল খায়ের মাতুব্বর জাগোনিউজকে বলেন, হত্যাকান্ডে জঙ্গি সংগঠন জেএমবি জড়িত। লুৎফর রহমান ফারুকের সাথে মতাদর্শগত দ্বন্দ্ব ছিল জেএমবি’র।
তিনি বলেন, ফারুক নিজেকে পীর হিসেবে পরিচয় দিলেও তিনি ইসলাম বিরোধী অনেক কথা বলতেন। উগ্রবাদী সংগঠন জেএমবিতার আদর্শকে ভালো নজরে নিতে পারে নি। এ কারণে এই খুনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত হত্যায় জড়িত সন্দেহে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির পাঁচ জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সে অনুযায়ী তদন্ত চলছে।
মামলার বাদী ও নিহত লুৎফরের ছোট ছেলে আবদুল্লাহ আল ফারুক জাগোনিউজকে বলেন, “বাবা বিশ্বাস করতেন পীড়ের ছেলে পীড় হবে। তিনি হত্যার শিকার হলেন। তবে আমি বিশ্বাস করি না আমিও পীড় হবো। আমার সে ইচ্ছেও নেই। আমি শুধু চাই আমার বাবা হত্যার বিচার।”
তিনি বলেন, বাবা-ভাইসহ ছয়জনকে হত্যার বছর পার হতে চললো। পুলিশ এতদিনেও খুনিদের চিহ্নিত করতে পারলো না।
নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আতঙ্কে রয়েছি।তাই আমি আর রাজধানীতে থাকি না। টাঙ্গাইলের ভূয়াপুরে গ্রামের বাড়িতে থাকি।
হত্যাকান্ডের ঘটনায় আমি মামলা করায় আমার উপরও চাপ রয়েছে। এমনকি হামলা হতে পারে বলেও পুলিশী নিরাপত্তা দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, আমি আশাবাদী পুলিশ সুষ্ঠু তদন্তের ভিত্তিতে খুব শিগরিরি বাবা-ভাইসহ ৬ হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করবে।
এসএইচ





