‘জুডিশিয়ারি বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার এখতিয়ার কোনো সাংবাদিকের নেই, দায়িত্বহীনভাবে রিপোর্ট করলেই তা সংবাদ হয় না'-প্রসিকিউটর মোহাম্মাদ আলী।
দৈনিক কালের কন্ঠের সংবাদ সম্পর্কিত বিষয়ের শুনানিকালে প্রসিকিউটর মোহাম্মাদ আলীকে অনেক প্রশ্নের সম্মূখীন করেন আন্তর্জাতিক অপধাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপধাধ ট্রাইব্যুনাল-১'র চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনালে শুনানি গ্রহণ করা হয়। বিচারপতি জাহাঙ্গীর আলম কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনটি কোন পর্যায়ে পড়ে এ বিষয়ে মোহাম্মাদ আলীর কাছে জানতে চান। একই সঙ্গে সংবিাধন ও আইন বিশেষজ্ঞ কীভাবে হতে হয় সে বিষয়ে প্রশ্ন করেন।
মোহাম্মাদ আলী বলেন, ‘সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞ হতে হলে ফৌজদারি ও আইন বিষয়ে প্রচুর জ্ঞান থাকতে হয়। এর উপরে গবেষণাধর্মী জ্ঞানও রাখার প্রয়োজন হয়। এছাড়াও আমাদের মতো অদক্ষরা যাদের কাছ থেকে শিখতে পারে তারাই সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞ হয়।’
ট্রাইব্যুনালে বিচারপতিরা মোহাম্মাদ আলীকে বলেন, ‘প্রতিবেদনটি শুধু আপনাকেই উদ্দেশ্য করে করা হয়নি। এর মধ্যে প্রসিকিউশনের অন্যান্য প্রসিকিউটরদেরও নাম রয়েছে। কিন্তু তারা থাকতে আপনি একা এর শুনানি করছেন কেন।’
জবাবে মোহাম্মাদ আলী বলেন,‘ভারপ্রাপ্ত চিফ প্রসিকিউটর হায়দার আলী অসুস্থ থাকার কারণে তার নির্দেশেই আমি নিজে এর শুনানি করছি।’
তিনি বলেন,‘গত ২৬ ফেব্রুয়ারি নিজামীর মামলায় আমি যে সাবমিশন করেছিলাম তা পত্রিকায় আংশিকভাবে এসেছে। এছাড়া কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনের মাধ্যমে জুডিশিয়ারিতে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবেদনে যেসব মন্তব্য এসেছে,আমি বিশ্বাস করি এভাবে আমার প্রসিকিউটর বন্ধুরা কিছুই বলেননি।’
এসময় ট্রাইব্যুনাল বলেন,‘আপনারা কী এ প্রতিবেদন প্রকাশের পরের দিন কোনো প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।’
মোহাম্মাদ আলী বলেন,‘এ প্রশ্নের উত্তর আমার পক্ষে দেয়া বেকায়দা।’
ট্রাইব্যুনাল বলেন,‘এ প্রতিবেদনের পক্ষে আপনারা সবাই মিলে কেন সংশোধনী দেননি। সবাই মিলে সংশোধনী দিতে পারতেন এবং আমাদের ব্যর্থতা ও স্বল্প সময়ের মধ্যে ৯টি মামলার রায়ের সফলতা তুলে ধরতে পারতেন। এ বিষয়গুলো ট্রাইব্যুনালে না এনে মিডিয়ার সামনে তুলে ধরতে পারতেন।’
মোহাম্মাদ আলী বলেন, ‘চেয়েছিলাম,কিন্তু কেউ কেউ তা মানতে চাইছে না। সব প্রসিকিউশনেই ব্যতিক্রম কিছু আছে। যাক আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। কারো কারো ব্যক্তিগত এজেন্ডা থাকতে পারে।
ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘এমন প্রতিবেদন শুধু একটি পত্রিকায় না আরও বিভিন্ন পত্রিকায় এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। তবে আপনার শুধু কেন একটিমাত্র পত্রিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন।’
মোহাম্মাদ আলী বলেন,‘এ পত্রিকাটি সম্প্রতি সংবাদ প্রকাশ করেছে। আর এর মধ্যে আদালত অবমাননার মতো কথা রয়েছে বলেই অভিযোগ এনেছি।’
এর পর মোহাম্মদ আলী ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের সাক্ষাৎকারের কাঠোর সমালোচনা করে বলেন, ‘শাহরিয়ার কবির শোনা কথার ভিত্তিতে ওই প্রতিবেদনে মন্তব্য করেছেন।’ এসময় মোহাম্মাদ আলীর বক্তব্যে সংহতি প্রকাশ করেন অপরাধ প্রসিকিউটর আলতাফ উদ্দীন।
ট্রাইব্যুনাল বলেন,‘এ প্রতিবেদনে কীভাবে বিচারব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হলো।’
মোহাম্মাদ আলী বলেন,‘এ প্রতিবেদক তার প্রতিবেদনটির মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালকে হেয় ও সরকারকে বিব্রতের মধ্যে ফেলার চেষ্টা করেছে।’
এসময় সাংবাদিকদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে মোহাম্মাদ আলী বলেন, ‘জুডিশিয়ারি বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার এখতিয়ার কোনো সাংবাদিকের নেই। দায়িত্বহীনভাবে রিপোর্ট করলেই তা সংবাদ হয় না।’
পরে দীর্ঘ এক ঘণ্টার শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল তার কার্যক্রম ২৮ মে পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।
[b]ঢাকা,কেএ ২২ মে (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসআর[/b]
অপরাধ
দায়িত্বহীনভাবে রিপোর্ট করলেই তা সংবাদ হয় না
‘জুডিশিয়ারি বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার এখতিয়ার কোনো সাংবাদিকের নেই, দায়িত্বহীনভাবে রিপোর্ট করলেই তা সংবাদ হয় না'-প্রসিকিউটর মোহাম্মাদ আলী।





