“ব্যবসায়িক বিরোধের জের ধরে এনামুল হক শামিমকে গুলি করার পরিকল্পনা করে তারই একজন ব্যসায়িক অংশীদার। খুনের কাজ সম্পন্ন করার জন্য ১ লাখ টাকা খরচ করার পরিকল্পনাও করা হয়। এঘটনায় ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
মঙ্গলবার উত্তরার প্রধান কার্যালয়ে র্যাবের গণমাধ্যম শাখার প্রধান এটিএম হাবিবুর রহমান এসব তথ্য জানান।
তবে কৌশলগত কারণে মূল পরিকল্পনাকারীর নাম উল্লেখ করতে অনাপত্তি জানায় র্যাব। তবে কিছুক্ষণ পরই র্যাবের গণমাধ্যম শাখার প্রধান এটিএম হাবিবুর রহমান ব্রিফিংয়ে কথা বলতে গিয়ে হঠাৎ বলেন, “শামীমের ব্যবসায়িক অংশীদার জসীম তাকে হত্যার জন্য ভাড়াটে অপরাধীদের ঠিক করে।
ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি একেএম এনামুল হক শামীমকে গুলির ঘটনায় চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এ টি এম হাবিবুর রহমান জানান, সোমবার রাতে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. মনির হোসেনকে রাজবাড়ির পাংশা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করের্যাব।
তার দেয়া তথ্য অনুসরণ করে মুন্সিগঞ্জের বিওপী সংলগ্ন এলাকা থেকে মো. হারুন, রাজধানীর তেঁজতুরি বাজার বস্তি থেকে মো. মেহেদী হাসান ও নজরুল ইসলাম জুয়েলকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
এদের মধ্যে হারুন ও মেহেদী হাসান সরাসরি গুলিবর্ষণে জড়িত এবং মনির হোসেন ও নজরুল ইসলাম জুয়েলকে হামলা পরিকল্পনায় জড়িত বলে জানান র্যাবের গণমাধ্যম শাখার এ কর্মকর্তা।
“খুনের পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে মুনিরকে দায়িত্ব দেয়া হয়। মুনির কারওয়ান বাজারের চাঞ্চল্যকর ফারুক হত্যা মামলার আসামী।
ভাড়াটে অপরাধী ঠিক করা, কারা কিভাবে কোথায় শামিমকে গুলি করবে তা ঠিক করার দায়িত্ব দেয় জুয়েলকে।
শামীমকে গুলি করতে তারা তেঁজগাওয়ের অস্ত্র ব্যবসায়ী সাঈদের কাছ থেকে মোটরসাইকেল, দুটি পিস্তল ভাড়া করে। খুনের জন্য ঠিক করে পেশাদার ‘কিলার’ হারুন ও মেহেদীকে।
১৯ জুন আওয়ামীলীগ নেতা এনামুল হক শামীমকে গুলি করার আগেও ১৭ জুন শামীমকে গুলি করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল জানিয়ে তিনি র্যাব কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, “ষ্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসের সামনে ‘কিলার’ মেহেদী শামীমকে হত্যার উদ্দেশ্যে এক রাউন্ড গুলি করে। তবে পিস্তল ফেলে যাওয়ায় সেখান থেকে গুলি বের হয়নি। এতে প্রাণে বেঁচে যান আওয়ামীলীগ নেতা শামীম”।
এটিএম হাবিবুর রহমান বলেন, র্যাব কার্যালয়ে শামীমকে গুলি করেছি স্বীকার করে মেহেদী সাংবাদিকদের জানান, “রানা ভাই আমাকে বলে তার বড় ভাই জসিমকে ষ্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্যায়ভাবে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এজন্য একজন শিক্ষককে গুলি করে ভয় দেখাতে হবে। কথায় রাজি হয়ে ঘটনার দিন মোটরসাইকেলে আমি, রানাভাই ও হারুন ভাই ধানমন্ডিতে উপস্থিত হই।
সেখানে একটি গাড়ি আসছে টেলিফোনে এমন খবর পেয়ে রানা ভাই মোটরসাইকেল চালাতে শুরু করে। আমি মোটরসাইকেলের মাঝে ছিলাম, হারুন ভাই ছিল পেছনে।”
মোটরসাইকেল শামীম ভাইকে বহনকারী গাড়ির বামে আসার পর আমি তিনটা গুলি করি। হারুন ভাই একটা গুলি করার পর তার বন্ধুক কাজ করছিল না।
ঘটনার পর এলাকায় চিৎকার চেচামেচি আর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে আমরা মোটরসাইকেল করে পালিয়ে যাই।
হারুন সাংবাদিকদের জানান, “ভাই আমি ২০ হাজার টাকা পাবো বলে এ কাজে অংশ নিয়েছিলাম।”
এ ঘটনার দুইদিন পর মেহেদির মোবাইলে ৫ হাজার ও হারুনের মোবাইলে কয়েক ধাপে ৯ হাজার টাকা বিকাশ করে দেয় মুনির।
জুয়েল ভাড়া করা অস্ত্রগুলি ফেরত দেয় বলেওসাঈদ ভাইকে স্বীকার করে মেহেদী ও হারুন।
উভয়েই জানান, “রানা তেঁজগাও থানার ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের নেতা। জুয়েলও তেঁজগাওয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে ও সাঈদ স্বেচ্চাসেবকলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত”। তবে তারা কে কোন পদে ছিলেন তা বলতে পারেনি মেহেদি ও হারুন।
এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে আশংকা করে জসিম ও রানাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে র্যাব বলেও জানান র্যাব কর্মকর্তা এটিএম হাবিবুর রহমান।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি একেএম এনামুল হক শামীম গত ১৯ জুন সকালে অফিস যাওয়ার সময় ধানমণ্ডি এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন।
ঢাকা, জেইউ, ০৮ জুলাই(টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএইচ





