ছিনতাই করার সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে হাতে নাতে আটক করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। ওই দুইজনসহ ৭জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে আল-আমিন নামে এক ভুক্তোভোগী।
রোববার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন উদ্যানের গেইটে এই ঘটনা ঘটে।
আটক ওই দুইজনের নাম আরিফুর রহমান নিলয় (ফিন্যান্স ৩য় বর্ষ) এবং আসাদ আহম্মেদ (ফিন্যান্স ১ম বর্ষ)।
নিলয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার দ্যা সূর্যসেন হলের (কক্ষ নং-২১৯) এবং আসাদ মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের (কক্ষ নং-১১২) আবাসিক শিক্ষার্থী। তারা দুজনই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে টিএসসি হয়ে বারডেম হাসপাতালে যাচ্ছিলেন শাহাদাত হোসেন ও আল আমিন নামের দুই ব্যক্তি। টিএসসি সংলগ্ন উদ্যানের গেইটের সামনে আসলে আটককৃত ছাত্রলীগের ওই জনসহ ৭-৮জন তাদের গতিরোধ করে। পরে তাদের কাছে থাকা মানিব্যাগ ও মোবাইল দিতে বলে।
ভুক্তোভোগী ওই দুইজন সবকিছু দিতে অস্বীকার করলে ছিনতাইকারীরা তাদের দুইজনকেই মারধর করে। পরে তাদের কাছে থাকা ৫ হাজার টাকা ও একটি স্যামসাং ও নোকিয়া মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
ভুক্তোভোগীরা চিৎকার করলে উদ্যানে থাকা কর্তব্যরত পুলিশ ছিনতাইকারীরে ধাওয়া দেয় এবং নিলয় ও আসাদকে হাতেনাতে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পরে বাদী হয়ে আল-আমিন নামে ওই ভুক্তোভোগী শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-২। মামলায় আটককৃত ওই দুইজনসহ আরো ৫জনকে আসামি করা হয়।
মামলায় আসামি অন্য ৫জন হলেন- আলিফ (দর্শন, ১ম বর্ষ) মহসিন হল, তৌফিক (বহিরাগত, বাড়ি যশোর) ঠিকানা জানা যায়নি, সজীব (রাজশাহী নিউ মডেল ডিগ্রী কলেজ), রাজীব চাকমা (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী) এবং শিহাব (ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী)।
শাহবাগ থানা পুলিশের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ছিনতাইকারীদের একটি গ্যাং প্রতিনিয়ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছিনতাই করে বেড়ায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ থানা পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা হাবিল হোসেন জানান, ছিনতাইয়ের অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। পরে ভুক্তোভোগীরা বাদী হয়ে ৭জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. এম আমজাদ আলী বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে এখনো বিস্তারিত কিছু জানিনা।
জানতে চাইলে সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরেফিন সিদ্দিক সুজন বলেন, ২১৯ নম্বর হলো প্রতিবন্ধীদের। ওই ছেলে আগে হলে থাকতো এখন থাকে না। তার বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।
জেএ





