অবশেষে সোনালী ব্যাংকের আলোচিত ৯ শাখার প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতি  সংক্রান্ত নথিপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা হয়েছে। শতাধিক প্রতিষ্ঠানের মালিক সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এসব টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শ এবং নির্দেশনা মোতাবেক অনুসন্ধানে নামে দুদক।
এর আগে দুদকের অনুসন্ধানী টিমের প্রধান মী মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বাধীন টিমের দফতরে সোনালী ব্যাংক হোটেল রুপসী বাংলা শাখা, আগারগাঁও এবং গুলশান শাখার ঋন সংক্রান্ত কাগজপত্রের সত্যায়িত ২ সেট করে নথিপত্র জমা হয়।
গত ৩০ এপ্রিল সোনালী ব্যাংকের ঢাকার মতিঝিল বৈদেশিক বানিজ্য কর্পোরেট শাখা, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখা এবং চট্টগ্রামের লালদীঘি সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখার নথিপত্র জমা হয়।
১ মে পর্যন্ত সোনালী ব্যাংক ঢাকায় লোকাল অফিস, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ কর্পোরেট শাখা এবং নারায়ণগঞ্জ কর্পোরেট শাখার নথিপত্র জমা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের ওই টিমের এক  কর্মকর্তা।
জানা যায়, গত বছর ২ ডিসেম্বর দুদক প্রথম দফা সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের মাধ্যমে ওই ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখার ঋণ সংক্রান্ত নথিপত্র চেয়ে চিঠি পাঠায়। পরে গত ২৪ ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় দফা নথিপত্র রবরাহের অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠায়। কিন্তু সোনালী ব্যাংক দুদকের ২ দফা চিঠির পরও তথ্য না দিয়ে সময় ক্ষেপন শুরু করে সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তারা।
এই বিষয়টি নিয়ে গত ১০ মার্চ অনলাইন দৈনিক‌ ‘টাইমনিউজবিডি.কম’এ একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে ১৩ মার্চ সোনালী ব্যাংক চিঠির মাধ্যমে দুদকে চাহিদা মোতাবেক নথিপত্র সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করে। এই সংবাদটির ১৯ মার্চ অনলাইন দৈনিক‌ ‘টাইমনিউজবিডি.কমে  প্রকাশিত হয়।
পরে গত ৩০ এপ্রিল সোনালী ব্যাংকের ৩ শাখার নথিপত্র জমা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বাকি শাখার নথিপত্রও জমা হয়। দুদকের চাহিদার মধ্যে রয়েছে, সোনালী ব্যাংক ঢাকার মতিঝিল বৈদেশিক বাণিজ্য কর্পোরেট শাখার গ্রাহক, মের্সাস বেরিল এপারেল্স লি: এবং মের্সাস ইউসুফ এন্ড কোম্পানীর (২০১০- ২০১৩ সাল) ওই ব্যাংকের ঋণ উত্তোলন, এলসি, আমদানি ও রফতানি সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের পরিদর্শন রিপোর্টসহ যাবতীয় নথিপত্র চাওয়া হয়।
চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখার গ্রাহক; ইমাম ট্রেডার্স, জামমির ভেজিটেবল ওয়েল লি:, একে এন্টারপ্রাইজ, মহিউদ্দিন কর্পোরেশন, কামাল এন্টারপ্রাইজ এবং অর্কিড ফ্যাশনের নামে (২০১০- ২০১৩ সাল) সোনালী ওই শাখায় ঋণের আবেদন, ঋণ উত্তোলন, এলসি,  আমদানি,  রফতানি সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র চাওয়া হয়।
চট্টগ্রামের লালদীঘি সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখার গ্রাহক; মের্সাস সিদ্দিক ট্রেডার্স, মের্সাস বেঞ্জ ইন্ডাস্ট্র্রিজ লি:, এভারেস্ট প্রাইভেট লি:, ইউরো এ্যাপারেলস লি:, এ্যাপারেল ফেয়ার লি:, মুক্তা এ্যাপারেলস লি:, লিবরা ফ্যাশন ওয়্যার লি:, বিউমন্ড গার্মেন্টস লি:,  হোসেন এ্যাপারেলস লি:, মের্সাস একমি  টেক্সটাইল এন্ড গার্মেন্টস লি: ইমন এ্যাপারেলস লি:,
মডেল এ্যাপারেলস লি: ইউনাইটেড ফ্যাশন লি:, ডিউড্রপস এ্যাপারেলস লি:,  রোজেন্ট গার্মেন্টস লি:, কোব এ্যাসোসিয়েটস লি:, এমাইকো ফেব্রিক্স লি:, তন্নী নীট ওয়্যার লি:, মৌসুমী টাওয়েল লি:এর নামে (২০১০ সাল -২০১৩ সাল) ব্যাংকের ওই শাখায় ঋণের আবেদন, বন্ধকী জমি, ঋণ উত্তোলন,  এলসি,  যাবতীয় নথিপত্র চাওয়া হয়।
সোনালী ব্যাংক মতিঝিল লোকাল অফিসের অভিযুক্ত গ্রাহক ‘অল টেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লি: কেএনএস ইন্ডাস্ট্রিজ লি:, ক্যাংসান ইন্ডাস্ট্রিজ লি:, থারমেক্স  টেক্সটাইল, ইকো কটন মিলস, রহিমা ফুড কর্পোরেশন, এপেক্স উইভিং এন্ড ফিনিশিং মিল্স লি:, পদ্মা পলিকটন নীট ফেব্রিক্স লি:, কেএসএস নীট কম্পোজিট লি:,পিলুসীড টেক্সটাইল লি: প্রতিষ্ঠানের নামে (২০০৯ সাল- ২০১৩ সাল) ঋণের আবেদন, ঋণ প্রদান,ব্যাংক কর্মকর্তাদের সুপারিশ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের।
নারায়ণগঞ্জ সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখার গ্রাহক; মের্সাস রুপসী গ্রুপের প্রতিষ্ঠান- রুপসী নীট ওয়্যার লি:, রুপসী ফেব্র্রিক্স লি:, রুপসী এব্রয়ডারী, রুপসী ডিজাইন এন্ড প্রিন্টিংস ও মের্সাস সালমান নীট কম্পোজিট লি: এর নামে (২০০৯ - ২০১৩) ঋণ উত্তোলন, এলসি, আমদানি, রফতানি যাবতীয় নথিপত্র চাওয়া হয়।
[b]ঢাকা, একে, ১৮ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর[/b]