মহান মুক্তিযুদ্ধে অবিস্মরণীয় অবদানের জন্য বিদেশি বন্ধু ও সংগঠনকে দেওয়া সম্মাননা ক্রেস্টে স্বর্ণ জালিয়াতির (পরিমাণে কম দিয়ে আত্মসাৎ) অভিযোগের অনুসন্ধান বন্ধ করে দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অনুসন্ধানে জালিয়াতির তথ্য-প্রমাণ হাতে পাওয়ার পরও বহুল আলোচিত এই অনুসন্ধানের কার্য্যক্রম বন্ধ করে দেয় রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি বিরোধী সংস্থাটি। এর মাধ্যমে কার্যত এ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের রেহাই দিচ্ছে দুদক।

বৃহস্পতিবার সকালে অনুসন্ধান কার্য্যক্রমের বিষয়টি জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান বলেন, ‘অভিযোগটি আমরা আপাতত অনুসন্ধান করছি না’। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা মিনিস্ট্রি তাদের মতো করে তদন্ত করছে। তারা করুক’।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি অর্থ লোপাট হওয়ায় এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার দুদকের। সেজন্যই দুদক এ অনুসন্ধান কাজ শুরু করেছিলো। দেশের ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে যে ঘটনাটি, তার অনুসন্ধান কাজ বন্ধ করা হলে দুদকের কার্য্যক্রম সমালোচনার মুখে পড়বে বলে তারা মনে করেন।

এদিকে একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, যেসব বিদেশি ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ নামে এ পুরস্কার পেয়েছেন তারাও ইতিমধ্যে জেনে গেছেন, তাদের ক্রেস্টে যে পরিমাণ স্বর্ণ থাকার কথা ছিল তা দেওয়া হয়নি। রুপার বদলে দেওয়া ছিলো পিতল, তামা ও দস্তামিশ্রিত শঙ্কর ধাতু।

মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য সম্মাননাপ্রাপ্ত এসব বিদেশিরা এটাও জেনেছেন, এ ঘটনায় বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন সংস্থা অনুসন্ধান করছে। তারাও আশা করছেন, এ দুর্নীতিতে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে দুদক আইনি ব্যবস্থা নিক। তাদের এমন প্রত্যাশার মুখে বন্ধ হয়ে যায় দুদকের অনুসন্ধান কার্য্যক্রম।

জানা গেছে, দুদকের সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তাকে কমিশন থেকে এ অনুসন্ধান কার্য্যক্রম বন্ধ রাখতে বলা হয়।

অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ও দুদকের উপ-পরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম মন্তব্য করবেন না জানিয়ে বলেন, ‘অন দ্য রেকর্ড বা অব দ্য রেকর্ড কোনো বক্তব্য আমার নেই। নো কমেন্টস।’

দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, দুদকের অনুসন্ধান টেবিলে ইতোমধ্যে এ জালিয়াতির বেশ কিছু দালিলিক তথ্য এসেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ঘটনায় জড়িতদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নিলে তাকে কমিশন থেকে অনুসন্ধান কার্য্যক্রম বন্ধ রাখতে বলা হয়।

এর মাধ্যমে এ ঘটনায় জড়িতরা দুদকের আইনি ব্যবস্থা থেকে রেহাই পেয়ে যান।
এমএইচ