একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুস সুবহানের (৮০) আপিল অ্যাবেটেড (চূড়ান্তভাবে সমাপ্তি ঘোষণা) করেছেন আপিল বিভাগ।

মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে সুবহানের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

শিশির মনির বলেন, এই মামলার বিষয়বস্তু (আব্দুস সুবহান) আর নেই। এই কারণে আপিল বিভাগ আপিলটিকে চূড়ান্তভাবে সমাপ্তি ঘোষণা (অ্যাবেটেড) করেছেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে তিনি মারা যান।

গত ২৪ জানুয়ারি তাকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে হাসপাতালের নতুন ভবনের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন তিনি।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) দুপুর ১টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মাওলানা সুবহানের মৃত্যু হয়। সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে ঢাকা থেকে মরহুমের লাশ সেদিন দিবাগত রাত ৩টার দিকে নিজ শহর পাবনায় নিয়ে আসা হয়।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় পাবনা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন ঐতিহাসিক দারুল আমান ট্রাস্ট ময়দান মাঠে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে আরিফপুর কবরস্থানে তার সহধর্মীনীর পাশে দাফন করা হয়।

জানাজায় ইমামতি করেন মরহুমের ছোট ছেলে হাফেজ মাওলানা মুজাহিদুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, মাওলানা সুবহানের জন্ম ১৯৩৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সুজানগর থানার মানিকহাটি ইউনিয়নের তৈলকুণ্ডি গ্রামে। তার বাবার নাম শেখ নাঈমুদ্দিন, মায়ের নাম নুরানী বেগম। আবদুস সুবহান জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতা ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করায় সংগঠনে তার প্রভাব ছিল উল্লেখ করার মত।

তিনি জামায়াতের মনোনয়ন পেয়ে পাবনা-৫ আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সবশেষ ২০০১ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোটের মনোনয়ন নিয়ে এমপি নির্বাচিত হন। জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আবদুস সুবহান পাকিস্তান আমলে ছিলেন পাবনা জেলা জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য। তিনি পাবনা আলিয়া মাদ্রাসার সাবেক হেড মাওলানা ছিলেন।

১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্ত থেকে আবদুস সুবহানকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ২৩ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।  ২০১৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের এই প্রভাবশালী নেতাকে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রাণদণ্ড দেন গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউশনের আনা ৯টি অভিযোগের মধ্যে ছয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাকে ফাঁসির রজ্জুতে ঝুলিয়ে দণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।

রায়ের দিন সুবহানকে নির্দোষ দাবি করে তার ছেলে নেছার আহমদ নান্নু বলেছিলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে মিথ্যা মামলায় তাকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে।

এমবি