পাইকপাড়ার যে বাড়িতে পুলিশের হামলায় তিন জঙ্গি নিহত হয়েছেন সেই বাড়ির মালিক নুরুদ্দিন দেওয়ান নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক কামাল দেওয়ানের বড় ভাই।
পাইকপাড়ার বাসিন্দা চাচাতো ভাই সালাউদ্দিন দেওয়ান এ কথা জানান। তিনি বলেন, বাড়ির মালিক নুরুদ্দিনের স্ত্রী রুনা, তিন ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে এ বাড়িতে বাস করছেন। বড় ছেলে এইচএসসির ছাত্র। মেজো ছেলে পড়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে, ছোট ছেলে কেজি-১ শ্রেণীর শিক্ষার্থী। সবার ছোট মেয়ে।
তিনি বলেন, নুরুদ্দিন দীর্ঘ দিন জাপান ছিলেন। দেশে ফেরার পর নিতাইগঞ্জসহ কয়েকটি স্থানে কাটা কাপড়ের ব্যবসায়সহ বিভিন্ন ব্যবসায় করেন। সেই ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বর্তমানে বাসা ভাড়া ছাড়া তার আর কোনো আয় নেই। তার ছোট ভাই কামাল দেওয়ান নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক হলেও নুরুদ্দিন দেওয়ান কোনো রাজনীতি তো নয়ই, কোনো কিছুতেই জড়িত নন।
এ বিষয়ে ঘটনাস্থল আসা নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, কামাল দেওয়ান আমাদের অর্থবিষয়ক সম্পাদক এটি ঠিক; কিন্তু কে কার ভাই তা জানি না।
পাইকপাড়া বড় মসজিদের খাদেম মাহমুদুল ইসলাম বলেন, নুরুদ্দিন দেওয়ানকে সজ্জন ব্যক্তি হিসেবেই জানি। তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন এ মসজিদে। তবে ঘটনার দিন সকালে তিনি নামাজে আসেননি।
অভিযান শেষে দুপুর ১২টায় বাড়ির মালিক নুরুদ্দিন দেওয়ানসহ ১০ জনকে পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়েছে। ডিবি পুলিশের সাদা একটি গাড়িতে করে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়।
জুলাইয়ে বাসাটি ভাড়া নেয়া হয়
নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার বাসাটি চলতি বছরের ৫ জুলাই জঙ্গিরা ভাড়া নেয়। ওই বাসায় গ্রেনেড, অস্ত্র ও গুলি মজুদ করে তারা। ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার সানোয়ার হোসেন এ তথ্য দিয়েছেন গণমাধ্যমে।
বাড়ির মালিক নুরুদ্দিন দেওয়ান জানান, তিনি আগে জাপানে থাকতেন। সেখান থেকে দেশে ফিরে প্রায় ১৫ বছর আগে তিনতলা বাড়িটি নির্মাণ করেন। এর দ্বিতীয় তলার পুরোটা নিয়ে নিজে থাকেন। তৃতীয় তলায় উত্তর ও দক্ষিণ দিকে একটি করে দুটি ফ্ল্যাট আছে।
জঙ্গিরা ভবনের তিন তলার দক্ষিণ পাশের ফ্ল্যাট জুলাই মাসের প্রথম দিকে ভাড়া নেয়। তারা নিজেদের ওষুধের ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দেয়। মুরাদ ও রানা পরিচয়ে সাত হাজার টাকায় তারা ফ্যাটটি ভাড়া নেয়। বাড়ির মালিক যখনই ওই ফ্যাটে গিয়েছেন তখনই দেখতে পেয়েছেন তারা রান্না করছে অথবা তারা বিছানায় শুয়ে আছে। বাসা ভাড়া নেয়ার পর তাদের জঙ্গি সদস্য এমন কোনো সন্দেহের কোনো অবকাশ পাওয়া যায়নি। শনিবার সকালে পুলিশের লোকজন আসার পর জানতে পারলাম এবং নিশ্চিত হলাম এই বাসায় জঙ্গিরা ছিল।
এসএ





