এনা প্রপার্টিজের চেয়ারম্যান ও রাজশাহী-৪ এর  সরকার দলীয় এমপি  এনামুল হকের অপরাধের দায়ভার তার স্ত্রীর কাধেঁ। এনামুলের  অবৈধ ক্ষমতা আর সম্পদের ভাগীদার তার স্ত্রী তহুরা হক। ফলে তহুরা হকের অবৈধ সম্পদের পুনরায় অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ।

জানা যায়, দুদকের নুতন অনুসন্ধানী কর্মকর্তা উপ-পরিচালক মো. জুলফিকার আলী আজ বুধবার   এমপি এনামুল ও তার স্ত্রীর অবৈধ সম্পদের নথিপত্র গ্রহণ করেছেন। সাবেক পরিচালক ও অনুসন্ধানী কর্মকর্তা যতন কুমার রায়ের তার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনসহ পুরো নথিপত্র নতুন অনুসন্ধনী কর্মকর্তাকে হস্তান্ত করেন।

দুদকের নীতিনির্ধারনী কর্মকর্তারা এবার এমপি এনামুল হক এবং স্ত্রীকে নিয়ে বড়ই বেকায়দায় পড়েছেন। কারণ তহুরা হক  স্বামীর অবৈধ সম্পদ আর ক্ষমতাকে পুঁজিকরে নিজের নামে বিপুল পরিমান অবৈধ সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন। ফলে (তার স্বামী)এমপি এনামুলের অপরাধের দায়ভার তাকে বহণ করতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এমপি এনামুল হক অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করতে গিয়ে উল্টো বিপরীত হয়েছেন। মিডিয়ায় এ বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা পেয়েছ।

এদিকে দুদকের সৃষ্ট ইমেজ ধরে রাখার স্বার্থেই এমপি এনামুল হক এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অভিযোগের বিরুদ্ধে শক্তভাবে আইনগত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছেন কর্মকর্তারা। যদি কোনো কারণে দুদক কম,র্কর্তারা তাদের ছেড়ে দেন। হাহলে প্রমাণ হবে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ওই মন্তব্য 'দুদক দায় মুক্তির কমিশন'। যারফলে দুদক সহসা ছাড়তে পারছে না এমপি এনামুল এবং তার স্ত্রীকে।

জানা যায়, আগের অনুসন্ধানী কর্মকর্তা সাবেকপরিচালক যতন কুমার রায়ের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমপি এনামুল হকের বিরুদ্ধে ২০৭ কোটি টাকা এবং তার স্ত্রী তহুরা হকের বিরুদ্ধে প্রায় ৪৯ কোটি টাকা  তথ্য গোপন এবং অবৈধ ( জ্ঞাত আয় বহির্ভুত) সম্পদের কথা উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে এমপি এনামুলের কোম্পানীর নীট প্রফিট আফটার ট্যাক্স হয়েছে ৮৪ কোটি টাকা। কিন্তু  তিনি সরকারকে ইনকাম ট্যাক্স (আয়কর) দিয়েছেন মাত্র ৮৭ লক্ষ টাকার উপর। অর্থাৎ তিনি সরকারের ট্যাক্স ফাঁকি দিয়েছেন ৮৩ কোটি ১৩ লাখ টাকার। ফলে এমপি এনামুল হকে অবশ্যই এনা প্রপার্টিজের ৮৩ কোটি ১৩ লাখ টাকার উপর নির্ধারিত পারসেন্ট  মোতাবেক প্রায় ২৫ কোটি টাকা ট্যাক্স হিসেবে পরিশোধ করতে হবে। সেই সঙ্গে সাজাও ভোগ করার বিধান রয়েছে।

অপর দিকে এমপি এনামুল হকের বিরুদ্ধে ২০৭ কোটি টাকা এবং তার স্ত্রী তহুরা হকের বিরুদ্ধে প্রায় ৪৯ কোটি টাকার অবৈধ  সম্পদ ও তথ্য গোপনের অভিযোগে দুদকের মামলা করার বিষয়টিও ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।এমতা অবস্থায় দুদক ইচ্ছে করলেও তাকে দুর্নীতি অবৈধ সম্পদ ও ট্যাক্স ফাঁকির বিষয়টি গোপন রেখে ‘বাংলা ওয়াশ করে’ সাফাই গেয়ে ফ্রেস সার্টিফিকেট দিতে পারচ্ছে না।

 এছাড়া গত ১০ সেপ্টেম্বর এমপি এনামুল হকের  আয়কর আইনজীবী কাঞ্চন দাস মোবাইলে (নম্বর ০১৬৭৭০৭২১১১) থেকে তৎকালীন দুদক অনুসন্ধানী কর্মকর্তা যতন কুমার রায়ের মোবাইলে (নম্বর-০১৬৮৭৭১১২৭৯)  ‘হাওয়া করে’ ফেলার হুমকি দেন। আর ওই হুমকিতে বলা হয় এমপি এনামুল হকে কোম্পানি  এবং ব্যক্তিগত সম্পদ আলাদা করে দেখতে হবে। তাদের কথা মতো কাজ না করলে হাওয়া করে ফেলা হবে। দুদকের উপরের  সব স্যার ম্যানেজ হয়েছেন, এখন শুধু তদন্ত (অনুসন্ধানী) কর্মকর্তা যতন কুমার রায় ম্যানেজ হলেই হবে।আর এ ঘটনায় দুদক কর্মকর্তা যতন কুমার রায় ওইদিনই (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রমনা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নং-৭৭৭) করেন।

 একে,