আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, “আজকে মামলা দায়ের করার যে হিরিক। আমি বলবো এটাকে যদি একটা ট্রেন্ড হিসেবে দেখি তাহলে কিন্তু আমরা নিশ্চিত হতে পারি। এই মামলা শেষ করা যাবে না। পৃথিবীর কোথাও শেষ করা যায়নি। এটাই বাস্তবতা।”

মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে ‘সরকারি আইনী সেবা ও সুশাসন শক্তিশালীকরণ’শীর্ষক সম্মেলন প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন জেলা জজরা। মন্ত্রী বলেন, যেভাবে মামলা দায়ের হয় সেইভাবে নিষ্পত্তি করা না গেলে মামলা শেষ হবে না যত দিন পৃথিবী আছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, আমি আমেরিকাতে গিয়ে দেখেছি, সেখানে ৯০ শতাংশ মামলা কোর্টের বাইরে নিষ্পত্তি হয়। আর ১০ শতাংশ মামলা কোর্টে নিস্পত্তি হয়।আমাদেরকেও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির উপর গুরুত্ব দিতে হবে।

আনিসুল হক বলেন, বিদ্যমান মামলাজট হ্রাস করতে লিগ্যাল এইড অফিসগুলো যাতে কার্যাকর ভুমিকা রাখতে পারে সে লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের পাশাপাশি দেওয়ানী কার্যডবিধি আইনের ৮৯ (এ) ধারায় সংশোধনী এনেছে। যাতে দরিদ্র ও দুস্থ জনগণকে আইনী সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি পক্ষগণের মধ্যে থাকা বিরোধ সমূহ বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, এজন্য সরকার লিগ্যাল এইডের অফিসারদের এডিআর বিষয়ক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান করে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে কাজ করছে। আমার বিশ্বাস অসহায়, দরিদ্রদের আইনী সহায়তা দিতে আপনারা সহযোগীতা করবেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন ও আইনের শাসন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এ কারনে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির কাজের গুরুত্ব বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট জেলার বিজ্ঞ জেলাবৃন্দকে এই কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

২০০৯ থেকে এ পর্যন্ত ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৭৪ জনকে সরকারি আইনগত সহযোগীতা প্রদান করা হয়েছে। আর ক্ষতিপূরনের অর্থ আদায় করা হয়েছে ২৮ কোটি ৭৯ লাখ ৪২ হাজার ৬১৫ টাকা।

জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এ এইচ এম হাবিবুর রহমান ভুইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আইন সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, ইউএনডিপি বাংলাদেশের ডেপুটি রেসিডেন্ট প্রতিনিধি ভ্যান গুয়েন প্রমুখ।

এমবি