দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) পাত্তা দিচ্ছে না আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক কর্মকর্তারা, এবার এ অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দুদক থেকে ব্যবসায়ি ওয়াহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে ঋণ জালিয়াতি ও বিদেশে অর্থ পাচারের তথ্য চেয়ে বারবার চিঠি দেয়া হচ্ছে। কিন্তু ওই ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ কর্মকর্তারা দুদকের অনুরোধ ও চিঠিকে পাত্তা দিচ্ছেন না বলে জানা যায়।
অবশেষে গত ১ ফেব্রুয়ারি দুদকের উপ-পরিচালক মো. জুলফিকার আলীর টিম বাধ্য হয়ে দুদক আইনের ১৯(৩) ধারা উল্লেখ করে তৃতীয়বারের মতো তথ্য ও রেকর্ডপত্র চেয়ে ওই ব্যাংকের এমডির কাছে চিঠি পাঠান।
তিনি আগামী ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যবসায়ি ওয়াহিদুর রহমানের ঋণ সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র সরবরাহের জন্য সময় বেঁধে দিয়েছেন। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোনো সাড়া দেননি বলে জানা যায়।
দুদক সূত্রে জানা যায়, দুদকের পক্ষ থেকে গত ১২ নভেম্বর এবং ২০ নভেম্বর রেকর্ডপত্র চেয়ে আইসিবি ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে পর পর ২টি চিঠি দেয়া হয়।
দুদকের ওই চিঠিতে ব্যবসায়ি ওয়াহিদুর রহমানের মালিকানাধীন অটো ডিজাইন, ফিয়াজ এন্টারপ্রাইজ, ফিয়াজ ট্রেডিং, পলাশ এন্টারপ্রাইজ, ইউনাইটেড এজেন্সি, ওয়েস্টার্ন গ্রিল এবং ডেংডি লায়ন রেস্টুরেন্টর নামে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ, ঋণের বর্তমান অবস্থা সংক্রান্ত প্রতিবেদন চাওয়া হয়।
কিন্তু ওই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দুদকের পাঠানো চিঠির কোনো জবাব দিচ্ছে না। ফলে এবার তৃতীয় চিঠিতে পরিস্কারভাবে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য উপাত্ত সরবরাহ না করলে, ব্যাংটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জানা যায়, ব্যবসায়ি ওয়াহিদুর রহমানের মালিকানাধীন ৭টি প্রতিষ্ঠানের নামে আইসিবি ইসলামি ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার ও আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে দুদকে।
ফলে দুদক এ অভিযোগ সঠিকভাবে অনুসন্ধানের স্বার্থে ব্যাংকে সংরক্ষিত ঋণ সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র চেয়ে বার বার চিঠি দিচ্ছ। কিন্তু এ ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় এবং বংশাল শাখার কর্মকর্তারা দুদকে এরিয়ে যাচ্ছেন।
দুদক সূত্র জানায়, ব্যবসায়ি ওয়াহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে আরো ৪টি বেসরকারি ও একটি সরকারি ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে বিদেশে পালিয়ে যান ।আর এ অভিযোগে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
অথচ ব্যাংকগুলো ঋণের নামে হাতিয়ে নেয়া প্রায় এক হাজার কোটি টাকা উদ্ধারে সচেষ্ট হয়নি। গত বছর মিডিয়ায় ব্যাংকেরই কিছু কর্মকর্তা ওই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন মর্মে অনুসন্ধানে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।পরে দুদক এ বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য উপ-পরিচালক মো. জুলফিকার আলী এবং সহকারী পরিচালক ওমর ফারুকের সম্বয়ে টিম গঠন করা হয়।
একে





