মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের জন্য ২০১০ সালের ২৫ মার্চ গত মেয়াদের মহাজোট সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গঠন করে। ৪ বছর পূর্ণ হলেও ট্রাইব্যুনালে এখনও স্থায়ীভাবে লোকবল নিয়োগ দেয়া হয়নি। ফলে অফিস সহকারিদের দিয়ে করানো হচ্ছে প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাজ।
এই বিশেষ আদালতের বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পুরাতন হাইকোর্ট ভবনকে ট্রাইব্যুনাল হিসেবে প্রস্তুত করা হয়। ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্তদের গ্রেফতার,অপরাধের বিষয়ে তদন্ত ও আইনজীবী প্যানেল গঠন করেন। এরপর অভিযুক্তদের বিচারকাজ দ্রুত গতিতে শেষ করার প্রয়াসে ২০১২ সালের ২২শে মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গঠন করা হয়।
ট্রাইব্যুনালের ৪ বছর পূর্ণ হলেও নিয়োগ বিধি সংক্রান্ত জটিলতা এখনো আছে। নানা জটিলতায় এখন পর্যন্ত প্রেষণে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারি এবং চুক্তিভিত্তিক লোকবল দিয়ে চলছে গুরুত্বপূর্ণ এ আদালতের কার্যক্রম।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গঠনের পর এর দাফতরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারি নিয়োগ দেয়া হয়। জজকোর্ট,সিএমএম আদালত এবং প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল থেকে এই লোকবলের মধ্যে ৮ জনকে সরাসরি আদালতে এবং বাকিদেরকে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনে নিয়োগ দেয়া হয়।
এছাড়াও ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা ভিত্তিতে ২১ জন পরিচ্ছন্ন কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়।
কিন্তু ২০১২ সালের ২৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল-২ গঠিত হওয়ার পরই ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে ব্যস্ততা বেড়ে যায়। ফলে লোকবলের অভাব ট্রাইব্যুনালে প্রকোপ হয়ে দেখা দেয়।
রেজিস্ট্রারের দফতর থেকে পাওয়া তথ্য মতে,২০১২ সালের ২৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল-২ গঠিত হওয়ার পরই জুলাই মাসে রেজিস্ট্রার কর্তৃক প্রয়োজনীয় ১১৩ পদে লোকবল চেয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। তবে ওই বছরের ডিসেম্বরে মন্ত্রণালয় থেকে মাত্র ৮৩টি পদের অনুমোদন দেয়া হয়। অনুমোদনকৃত এসব পদের মধ্যে রেজিস্ট্রারের দফতরে ৪১ জন এবং ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২ এর জন্য ৪২ জনের নিয়োগ দেয়ার কথা বলা হয়।
পদগুলোর মধ্যে রয়েছে রেজিস্ট্রার,ডেপুটি রেজিস্ট্রার,সিনিয়র আইন গবেষণা কর্মকর্তা,প্রশাসনিক কর্মকর্তা,স্ট্যানোগ্রাফার কাম কম্পিউটার অপারেটর,বেঞ্চ অফিসার,সহকারি বেঞ্চ অফিসার,অফিস সহকারি, কোর্টকিপার, ক্যাশিয়ার, এমএলএসএস, ড্রাইভার, ডেসপাচ রাইটার, ফরাশ, জামাদার, গ্রন্থাগারিক, হার্ডওয়ার টেকনিশিয়ান, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, নাইটগার্ড এবং সুইপার।
এরপর ২০১৩ সালের জুলাই মাসে লোকবল নিয়োগের ছাড়পত্র পেলেও নিয়োগ বিধি চূড়ান্ত না হওয়ায় এখনও পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের নিয়োগ প্রক্রিয়া থেমে রয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের এক কর্মকর্তা(নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান,৪ বছর পূর্ণ হলেও ট্রাইব্যুনালে এখনও স্থায়ীভাবে লোকবল ঠিক করা হয়নি। ফলে একই বেতনে একজন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। অফিস সহকারিদের দিয়েও করানো হচ্ছে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ক্যাশিয়ার এবং অন্যান্য কর্মকর্তার কাজ। স্থায়ী ড্রাইভার না থাকায় রেজিস্ট্রারের গাড়িচালকের দায়িত্ব পালন করছেন একজন পরিচ্ছন্ন কর্মচারী। দৈনিক চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হওয়ায় পরিচ্ছন্ন কর্মীরা শুক্রবার মজুরি পান না বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার নাসির উদ্দিন জানান,ট্রাইব্যুনালের প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগের বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নিয়োগ বিধি সংশোধনীর ফলে সময়মত প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। সরকারি কর্ম কমিশন থেকে এই বিধিটি আইন মন্ত্রনালয়ে আসার কথা রয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে বিধিটি ট্রাইব্যুনালে আসলেই আমরা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিতে পারব।
[b]ঢাকা, কেএ, ৩০ মে (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসআর[/b]
স্থায়ী লোকবল ছাড়াই চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের জন্য ২০১০ সালের ২৫ মার্চ গত মেয়াদের মহাজোট সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গঠন করে। ৪ বছর পূর্ণ হলেও ট্রাইব্যুনালে এখনও স্থায়ীভাবে লোকবল নিয়োগ দেয়া হয়নি। ফলে অফিস সহকারিদের দিয়ে করানো হচ্ছে প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাজ।
নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি, বাস্তবায়ন তিন ধাপে
সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
নতুন পে স্কেলের ভেটিং সম্পন্ন, প্রজ্ঞাপনের দিনক্ষণ নিয়ে সবশেষ যা জানা যাচ্ছে
দীর্ঘ অপেক্ষার পর সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন আজ শনিবার জারি হতে পারে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) প্রজ্ঞাপন ছাপার কাজ চলছে। শনিবার দুপুরের পর এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষায় সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: আইনমন্ত্রী
যেকোনো পরিস্থিতিতে নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
পে স্কেলের গেজেট প্রকাশে দেরি কেন, নেপথ্যে কী?
মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পরও নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশে দেরি হচ্ছে মূলত প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়ার কারণে। গত ৩১ আগস্ট নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদনের পর এক সপ্তাহের মধ্যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কথা বলা হলেও ১২ দিন পেরিয়ে গেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন এখন আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং বা আইনি যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। এর পাশাপাশি জুডিশিয়ারি সার্ভিসের বেতন ও বিভিন্ন ভাতা নিয়ে কিছু বিষয় সমন্বয়ের প্রয়োজন হওয়ায় গেজেট প্রকাশে বাড়তি সময় লাগছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।ন
পে-স্কেল নিয়ে নতুন করে জটিলতা, নেপথ্যে যে কারণ
মন্ত্রিসভা থেকে অনুমোদন এসে গেছে। গত ৩১ আগস্ট নতুন বেতনকাঠামো এই অনুমোদন পাওয়ার পরও ১০ দিন পেরিয়ে গেছে। ১ সপ্তাহের মধ্যে গেজেট জারির কথা জানানো হয়, তবে ১০ দিন পরও তা হয়নি।
















