ঈদুল আজহা সামনে রেখে দেশের আনাচে-কানাচ থেকে অজ্ঞান পার্টি এসে ভিড়ছে রাজধানীতে। তাদের খপ্পরে পড়ে গত ১০ দিনে কমপক্ষে ৪০০ জন সর্বস্ব হারিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন৷ ঢাকা মহানগর পুলিশের হিসেবেই অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে ইতোমধ্যে মারা গেছেন দু'জন৷
সংবাদ মাধ্যমে তো বটেই ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রতিদিনই চোখে পড়ছে ভুক্তভোগীদের স্ট্যাটাস। অজ্ঞান পার্টির বিষয়ে ঈদযাত্রীদের সচেতন করতে বিলি করা হয়েছে প্রায় দুই লাখ লিফলেট। বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে ১০টি দৈনিক পত্রিকায় ৷।টেলিভিশনগুলো প্রচার করছে অজ্ঞান পার্টি নিয়ে নানা খবর। তাই এবারে ঈদের ‘হিরো' বা ‘ভিলেন' এখন অজ্ঞান পার্টি৷
অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়াদের সবার কাহিনী প্রায় একই রকম৷ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অপরিচিত ব্যক্তিরা সখ্যতা গড়ে কিছু খাইয়ে অজ্ঞান করে সবকিছু নিয়ে গেছে তাদের৷ আর তাদের উদ্ধার করা হয়েছে রাস্তা, বাসস্টেশন বা লঞ্চঘাট থেকে৷
অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়া রোগীদের পরীক্ষা করে চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, খাবারের সঙ্গে অনেকক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার ‘ডায়াজিপিন' ট্যাবলেট কিংবা সিরাপ মিশিয়ে অজ্ঞান করার কাজ করে প্রতারক চক্র৷ আর এর প্রতিক্রিয়ায় অজ্ঞান হওয়া ছাড়াও ডায়াবেটিস ও লিভারের সমস্যাগ্রস্ত রোগীরা মারাও যেতে পারেন৷ পুলিশের ভাষ্যমতে, অচেতন করার এসব ওষুধ আমদানি নিষিদ্ধ৷ তারপরও অসাধু ব্যবসায়ীরা চোরাই পথে আমদানি করে উচ্চ মূল্যে প্রতারক চক্রের কাছে বিক্রি করে৷
পুলিশ এবং গোয়েন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজধানী ঢাকা ও আশপাশে অজ্ঞান পার্টির ২০টি চক্র সক্রিয় রয়েছে৷ তাদের সদস্য তিনশ'র বেশি৷ অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা একদলে কমপক্ষে চারজন থাকে৷ তারা নানা কৌশলে যাত্রী বা কেনাকাটা করতে আসা ব্যক্তিদের টার্গেট করে ভাব জমায়৷ এরপর তারাও খায়, শিকারকেও খেতে দেয়৷ আর এরমধ্যেই থাকে কারসাজি৷
পুলিশ শনিবার পর্যন্ত অজ্ঞান পার্টির ৪০ জন সদস্যকে আটক করার কথা জানিয়েছে৷ আর অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের ধরতে গঠন করেছে বিশেষ টিম৷ তারা লঞ্চ, রেল ও বাসষ্টেশন এবং জনসমাগম স্থলে নজরদারি বাড়িয়েছে৷
৪ অক্টোবর শনিবার রাজধানীতে অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে ৯ জন অসুস্থ হয়। অসুস্থদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। দুর্বৃত্তরা অচেতন করে তাদের কাছ থেকে দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।
তারা হলেন, জাহাঙ্গীর আলম (৪০), আবুল বাশার (৪২) ও অজ্ঞাত ব্যক্তি (৪০)। অচেতন অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জাহাঙ্গীর তার জুতার দোকানে চাকরি করেন। দোকানের মালিক ইব্রাহিম জানান জাহাঙ্গীর সকাল ১০টার দিকে সাভারের আমিন বাজারের জুতার কারখানা থেকে এক লাখ টাকা নিয়ে বংশালে যাচ্ছিলেন। বাসের মধ্যে জাহাঙ্গীরকে অচেতন করে এক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। বাসটি গুলিস্তানে পৌছলে স্থানীয় লোকজন পকেটে থাকা ভিজিটিং কার্ড থেকে মোবাইল নম্বর নিয়ে তাকে ফোন দেয়। পরে তিনি জাহাঙ্গীরকে উদ্ধার করে মেডিক্যালে ভর্তি করেন। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার জ্ঞান ফিরেনি।
অচেতন আবুল বাশারের আত্মীয় জয়নুল আবেদিন জানান, আবুল বাশার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে চাকরি করেন। শনিবার দুপুরে তিনি গুলশান থেকে বাসে করে মতিঝিলে যাচ্ছিলেন। বাসের মধ্যেই অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়েন তিনি। দুবৃর্ত্তরা তাকে অচেতন করে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের ভুইঘর।
খিলগাঁও থানার এসআই আবুল বাশার জানান, বিকেল ৩টার দিকে খিলগাঁও খিদমাহ হাসপাতালের সামনে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি অচেতন অবস্থায় পড়েছিলেন। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়। তার পড়নে ছিলো শার্ট-প্যান্ট। জ্ঞান না ফেরায় কী পরিমাণ মালামাল তার কাছ থেকে খোয়া গেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অজ্ঞান পার্টির খপ্পরের পড়ে ১৫ জন গরু ব্যবসায়ী ১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা খুইয়েছেন। শুক্রবার রাত ১০টায় রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর হাউজিং বেড়িবাঁধ এলাকায় অবস্থিত কোরবানির পশুর হাটে এ ঘটনা ঘটে। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্বরত এসআই মোজাম্মেল হক বলেন, রাত আড়াইটার দিকে ছয়জন ও রাত ৩টার দিকে আরও ৯ জন গরু ব্যবসায়ীকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থ হওয়া গরু ব্যবসায়ীদের মধ্যে সাতজনের বাড়ি নওগাঁ। বাকি আটজনের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। এরা হলেন : আবু তাহের (৪০), ইকরামুল (২৪), শিপন (৩০), শফিক (৪০) আব্দুর রহমান (৪৫), কার্ত্তিক (৩৫), ইয়াসিন (৩৫), আবদুর রহমান (৩৫), মিজান ২৫, সিদ্দিকুর রহমান সাঈদ (৬০), রকিব (২২), পলাশ (২৫), সাইদু রহমান (৩০) দিনাই (৩০) ও ওসমান (৪০)।
তাদের স্বজনরা জানান, তারা নওগাঁ এবং কুষ্টিয়া থেকে গরু বিক্রি করতে ঢাকায় এসেছিলেন। বেশ কয়েকটি গরু বিক্রিও করেছিলেন। কিন্তু তারা যখন রাতের খাবার খান তখন অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা কৌশলে খাবারের সঙ্গে নেশা জাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে দেয়। এতে খাওয়ার পর তারা অজ্ঞান হয়ে যান। পরে তাদের কাছ থেকে ১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় অজ্ঞান পার্টিরা সদস্যরা। পরে হাটের ইজারাদার আমিনসহ অন্যরা টের পেয়ে তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, এত নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা হাটের ভেতরে প্রবেশ করে এ ঘট্না ঘটাল। এটা আমরা প্রত্যাশা করিনি।
রাজধানীর গাবতলী এলাকায় অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়েছেন আবজাল মিয়া (৩৫), বাদল মিয়া (৩০) নামে ফরিদপুর থেকে আসা দুই গরু ব্যবসায়ী। তাদের ৭৪ হাজার টাকা খোয়া গেছে।
আবজাল ব্যাপারীর নানা ইউসুফ মোল্লা বলেন, কেরানীগঞ্জের জিনজিরা থেকে দুটো গরু বিক্রি করে আমরা বাসযোগে গাবতলী যাচ্ছিলাম। আমি বাসের পেছনে আর ওই দুজন সামনে ছিল। গাবতলীতে নামতে গিয়ে দেখি দুজন অজ্ঞান হয়ে আছেন। তাদের কাছে টাকা থাকা ৭৪ হাজার টাকাও নেই।
ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পূজা দেখতে আসেন গাজীপুরের প্রদীপ দম্পতি। তার স্ত্রী চন্দনা বিশ্বাস জানান, দোকান থেকে সিগারেট কিনে ধূমপান করার পর তার স্বামী অচেতন হয়ে যায়।
ডেমরা থেকে শাহবাগে বারডেম হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন আলম মিয়া নামে ডায়াবেটিকসের এক রোগী। গুলিস্তান মোড়ে তিনি অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়েন।
আলম মিয়ার ভাই ইসমাইল হোসেন জানান, ভুক্তভোগীর কাছ থেকে চার হাজার টাকা খোয়া গেছে।
গুলিস্তান নগর ভবনের পেছন থেকে অজ্ঞান অবস্থায় মামা-ভাগ্নেকে উদ্ধার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। মামার নাম বেলাল হোসেন (২৫), ভাগিনা আবু সুফিয়ান (২০)। বেলাল গার্মেন্টসকর্মী, আবু সুফিয়ান কাঠমিস্ত্রী। তারা সাভারের রাজাসন এলাকায় থাকেন। তাদের বাড়ি ভোলা সদরে। বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশে সাভার থেকে তারা গুলিস্তানে আসেন।
৩ই অক্টোব রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় ছয় ব্যক্তি অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এ সব ঘটনা ঘটে
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে থেকে রাত সাড়ে ১০টায় কবির হোসেন (৩০) নামে এক এসি ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন পথচারী সাইদুর রহমান।
আহত কবির হোসেন জানান, তার বাসা মিরপুরের পল্লবীতে। তিনি ব্যবসায়িক কাজে সন্ধ্যায় কাকরাইলে আসেন। রাত সাড়ে ৮টায় বাসায় যাওয়ার জন্য কাকরাইলের রাজমণি সিনেমা হলের সামনে
আসেন। তখন একটি মাইক্রোবাসের চালক মিরপুর মিরপুর বলে ডাকতে থাকেন। তিনি ওই মাইক্রোবাসে ওঠেন। মাইক্রোর ভিতরে চালকসহ আরও পাঁচজন ছিলেন। মাইক্রোতে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে তার চোখে-মুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দিয়ে সঙ্গে থাকা ২০ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে শহীদ মিনারের সামনে ফেলে দিয়ে যায়।
এ ছাড়া রাত ৮টায় কদমতলীর মুন্সীবাড়ী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় (৪২) বছরের এক ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পথচারী শাহ আলম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাত সোয়া ৮টায় ভর্তি করেন।
মিরপুর ১ নম্বর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মফিদুল ইসলাম (৩০) নামে এক যুবককে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে রাত ৮টায় সাইদুল ইসলাম নামে এক পথচারী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
মতিঝিলের আরামবাগের দেওয়ানবাগ শরিফের সামনে থেকে হাবিবুর রহমান (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় রাত সাড়ে ৭টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন তার বড় ভাই মাহবুবুর রহমান।
মিরপুরের পূরবী সিনেমা হলের সামনে থেকে আনোয়ার হোসেন (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে তার ছেলে আজহারুল ইসলাম সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
কারওয়ানবাজার থেকে সবজি ব্যবসায়ী মোরশেদ (২৫) নামে এক ব্যক্তিকে পথচারীরা অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে বিকেল সাড়ে ৫টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনাগুলো নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোজাম্মেল হক।
২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর মতিঝিল শিল্প ব্যাংকের সামনে বাবুল হাওলাদার (৫০) নামের এক ব্যক্তি অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়ে ৯৫ হাজার টাকা খুইয়েছেন। তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঢামেক সূত্রে জানা গেছে, বাবুলের বাড়ি শরীয়তপুর সদরে। তিনি ৩০ সেপ্টেম্বর ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে তার চাচা ডা. মুকিবের বাসায় আসেন। চাচার কাছ থেকে ৯৫ হাজার টাকা নিয়ে দুপুরে পল্টনে একটি দোকানে যাওয়ার কথাছিল। কিন্তু দুপুরে তাকে অচেতন অবস্থায় মতিঝিলে থেকে উদ্ধার করে তার বন্ধু মিন্টু।
২৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর যাত্রাবাড়ি এলাকায় অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়ে মো. সোহাগ নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যের পরিবার জানায়, সোহাগের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। সকালে কুমিল্লা থেকে ঢাকার উত্তরায় ভাইয়ের বাসায় আসার সময় যাত্রাবাড়ি এলাকায় অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়ে। আহত অবস্থায় দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে দুপুরে সোহাগকে নিয়ে আসা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বিকেলে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোহাগ মারা যায়।
২৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে আহত ৬ জন । আহতরা হলেন, সাইফুল ইসলাম (২৪), কামাল (২০), ইব্রাহিম (২৫), আলমগীর (৪৫) ও অজ্ঞাত পরিচয়ে দুইজন, যাদের বয়স আনুমানিক ৫০ ও ২৭ বছর। তারা ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোজাম্মেল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়া আরো ৬ জনকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে মো. আলমগীর (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে রাজধানীর মালিবাগ এলাকা থেকে স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে আসে। তার বাসা কদমতলী থানার রায়েরবাগ এলাকায়। একইদিন বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তাজউদ্দিন (৬০) নামের অারেক ব্যক্তিকে মিরপুর থেকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্থানীয়রা। তিনিও অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েছিলেন। তার বাড়ি আশুলিয়ার নরসিংহপুর গ্রামে।
৩০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বিভিন্নস্থানে অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়ে এক নারীসহ সাত ব্যক্তি সর্বস্ব খুঁইয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোজাম্মেল হক বলেন, মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের পাশ থেকে সুমাইয়া আক্তার (২২) নামের এক তরুণীকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন এক রিক্সাওয়ালা। তিনি গুলিস্তানে একটি এনজিওতে কাজ করেন। তার বাড়ি রাজবাড়ির সুলতানপুরে। খবর পেয়ে তার ভাই আবদুর রাজ্জাক হাসপাতালে যান।
এদিকে, গুলিস্তানের গোলাপশাহ মাজারের পাশ থেকে দুপুর আড়াইটার দিকে আবু সুফিয়ান (২২) নামের এক তরুণকে স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে যান। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে।
অন্যদিকে, শাহবাগ এলাকা থেকে পুলিশ অজ্ঞাত (৩৮) এক ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
গুলশান-১ এলাকা থেকেও খোকন মিয়া (৪০) এবং বনানী বাস স্ট্যান্ড থেকে মো. জাহিদ (২০) নামের দু’জনকে পুলিশ সোমবার রাতে উদ্ধার করে।
এছাড়াও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের তারাবো থেকে মো. পাভেল (২৬) ও মগবাজার এলাকা থেকে মাজহারুল ইসলাম (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ ও স্বজনরা।
সূত্র: এ ওয়ান নিউজ
জেএ





