চাঁদপুরের চাঞ্চল্যকর লিয়াকত হত্যা মামলার দুই আসামিকে ‘সমঝোতা’র ভিত্তিতে খালাস দেয়ার অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী মো. তৌফিক আজিম মিশু। জেলা দায়রা জজ আসামিদ্বয়কে ‘সমঝোতা’র ভিত্তিতে খালাস দেয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

হত্যা মামলার বাদী মো. তৌফিক আজিম মিশু প্রধান বিচারপতির বরাবর আবেদন করে এই অভিযোগ করেন। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটি ইতিমধ্যে তদন্ত রিপোর্টও জমা দিয়েছে বলে জানা গেছে।

লিয়াকত হত্যা মামলার বাদী তৌফিক আজিম মিশু গত ৩১ মে প্রধান বিচারপতি বরাবর লিখিত অভিযোগে বলেছেন, ২০১২ সালের ১০ মে রাত সাড়ে নয়টায় প্রকাশ্যে অস্ত্র দিয়ে আসামিরা কুপিয়ে হত্যা করেন লিয়াকত উল্যাহ সরকারকে।

এ ঘটনার একদিন পরলিয়াকতের ভাতিজা তৌফিক আজিম মিশু বাদী হয়ে ১১ মে জেলার মতলব উত্তর থানায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। যার নম্বর ১০। তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ৬ মার্চ অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।

চাঁদপুর জেলা দায়রা জজ আদালতে মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। গত ৮ এপ্রিল শুনানি শেষে মামলার এক নম্বর আসামি মঈন উদ্দিন হোসেন টুনু ও পাঁচ নম্বর আসামি মোহাম্মদ এহসানকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।   

প্রধান বিচারপতির বরাবর লিখিত আবেদনে বাদী তৌফিক আজিম মিশু অভিযোগ করেন, জেলা দায়রা জজ মো.মফিজুল ইসলাম লিয়াকত হত্যা মামলার খালাস প্রাপ্ত পাঁচ নম্বর আসামি এহসানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথপোকথন করেছেন।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, দুই আসামিকে খালাস দেয়ার আগের দিন ৭ এপ্রিল আসামি এহসানের সঙ্গে চারবার কথা বলেছেন জেলা দায়রা জজ মো. মফিজুলইসলাম।

গত (১৫ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল) এক মাসে আসামি এহসানের সঙ্গে মো.মফিজুল ইসলামের ২২ বার (নিজ) মোবাইল ফোনে কথা হয়।

জেলা দায়রা জজ মো. মফিজুল ইসলাম ৯ বার নিজ মোবাইল নম্বর থেকে আসামি এহসানকে ফোন করেন। আর আসামি ফোন করেন ১৩ বার। এসব কথপোকথনের ডকুমেন্ট এ প্রতিবেদকের সংগ্রহে রয়েছে। বিচারকের ফোনালাপের কারণে আসামিদের সঙ্গে বিশেষ কোনো ‘সমঝোতা’ হয়ে থাকতে পারে বলে দাবি করেন বাদীপক্ষ।

খবর নিয়ে জানা গেছে, বাদীর আবেদনের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠিত হয়েছে। এ কমিটির তদন্ত কর্মকর্তা গত ৭ জুন চাঁদপুর গিয়ে অভিযোগের তদন্ত করে ইতিমধ্যে প্রতিবেদনও জমা দিয়েছেন।

এসএইচ