জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মুহাম্মদ কামারুজ্জামান বলেছেন, 'মিথ্যা গল্প সাজিয়ে আমাকে হত্যা করা হচ্ছে। আমি মরে যাবো, কিন্তু আদর্শ মরবে না। এটাই আমার সার্থকতা। আমি যে আদর্শে বিশ্বাস করি সে আদর্শ যুগ যুগ ধরে এ দেশে বেঁচে থাকবে।'
বুধবার পরিবারের সদস্যরা কেন্দ্রীয় কারাগারে দেখা করতে গেলে তাদের সঙ্গে এসব কথা বলেন কামারুজ্জামান।
কারাগার থেকে বের হয়ে কামারুজ্জামানের ছেলে হাসান ইকবাল সাংবাদিকদের আরও জানান, "আমার বাবা মৃত্যু নিয়ে মোটেও বিচলিত হননি। তিনি একেবারেই স্বাভাবিক আছেন। আমার বাবার মতো শক্ত মানুষ আর দেখি নাই। এত জুলুম, এমনকি মৃত্যুর দুয়ারে দাঁড়িয়েও তিনি ভেঙ্গে পড়েননি।" এটি তাদের নিয়মিত সাক্ষাৎ বলে জানান তিনি।
হাসান ইকবাল বলেন, "বাবা, মাকে বলেছেন, তিনি যে আদর্শের আন্দোলন করছেন, তার সন্তানদেরও যেন সেই আদর্শে গড়ে তোলা হয়। আর যে মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত।"
রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়া হবে কি না-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে হাসান ইকবাল বলেন, "আসলে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্ন এখনই আসার কথা নয়। কারণ আইন অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হবে। এরপর রিভিউ করা হবে। সেখানে যদি ফাঁসির রায়ই বহাল থাকে তবেই ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি সামনে আসবে। আর তখন (তিনি) বাবা সিদ্ধান্ত নিবেন তিনি ক্ষমা চাইবেন কি না।"
বুধবার সকাল পৌনে ১০টায় মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করতে তার স্ত্রী, ছেলে, ভাগনেসহ পরিবারের নয় সদস্য কেন্দ্রীয় কারাগারে আসেন। সকাল ১০টা ২৬মিনিটে স্বজনরা কামারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করেন।

মঙ্গলবার দুপুরে কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কারাগার থেকে মুহাম্মদ কামারুজ্জামানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়।
এর আগে, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের আপিলের চূড়ান্ত রায়ে ফাঁসির আদেশ দেয় আপিল বিভাগ।
গত বছরের ৯মে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার রায় ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
গত বছরের ৬ জুন খালাস চেয়ে আপিল করেন কামারুজ্জামান। সুপ্রীম কোর্টে আপিল দাখিলের পর এ বছরের ৫ জুন শুনানি শুরু হয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর তা শেষ হয়। ট্রাইব্যুনালে আসামির সর্বোচ্চ সাজার আদেশ হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলায় আপিল করেনি।
জেএ





