মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় কারাগারে দেখা করলেন তাদের পরিবারের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ২২ মিনিটের দিকে সাকার স্ত্রী, ছেলে, পুত্রবধূ, নিকট আত্মীয়সহ ১৪ জন এবং সদস্য কারাগারে ভিতরে প্রবেশ করেন।

এর আগে বেলা ১২টার দিকে সাকার ধানমণ্ডির বাসা থেকে রওনা হন তারা। সাতটি গাড়িতে করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে দেখা করতে রওনা হন।

এর আগে বেলা ১১টায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এসে তারা সাক্ষাতের আবেদন করেন।

তখন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ১৫ সদস্যের দেখা করার জন্য তারা কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি চেয়েছেন।

গতকাল বুধবার রায় পুনর্বিবেচনায় (রিভিউ) বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আবেদন খারিজ করে আপিল বিভাগ। এর ফলে তার মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে।

অন্যদিকে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে একইদিন বেলা দেড়টার দিকে পরিবারের ১২ জন সদস্য ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভিতরে প্রবেশ করেছেন। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন- মুজাহিদের স্ত্রী, দুই ছেলে, ছেলের বউ, নাতি ও এক ভাইসহ নিকট আত্মীয়রা।

এর আগে পরিবারের পক্ষ থেকে মুজাহিদের সঙ্গে সাক্ষাত করতে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে একটি লিখিত আবেদন করা হয়।

উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের রিভিউ আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ফলে তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রয়েছে এবং রায় কার্যকরে আর কোনো আইনি বাধা নেই। তবে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মুজাহিদের মানবতাবিরোধী মামলার চূড়ান্ত রায় প্রকাশ করে। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর নিয়ম অনুযায়ী ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করতে হয়। সে অনুযায়ী সময় শেষ হয়ে যাওয়ার একদিন আগেই পৃথকভাবে রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন তাদের আইনজীবীরা।

গত ২৯ জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির আদেশ বহাল রাখে আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই খারিজ আদেশ দেয়। বেঞ্চের বাকি সদস্যরা হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

এমকে