ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের একটি মামলায় আগামী ১৫ জানুয়ারি কারাগারে থাকা সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

বুধবার ধার্য তারিখে তিনি আদালতে হাজির না হওয়ায় এ আদেশ দেন ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আতাউল হক।

বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী গত ২ অক্টোবর মামলাটি দায়ের করেন। ওইদিন মামলাটি আমলে নিয়ে আসামি লতিফ সিদ্দিকীকে ২০ অক্টোবর আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন। সমন অনুযায়ী তিনি আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ২০ অক্টোবর আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

হজ, তাবলিক জামাত এবং প্রধানমন্ত্রী পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মোট ৭টি মামলা হয়।গত ১ অক্টোবর অ্যাডভোকেট আবেদ রাজার দায়ের করা মামলায় গত ২৫ নভেম্বর লতিফ সিদ্দিকী থানায় আত্মসমর্পন করলে তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। ওইদিন আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে সে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসাপালে চিকিসাধীন রয়েছেন।

মামলাগুলোর অভিযোগে বলা হয়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রবিবার বিকেলে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের একটি হোটেলে নিউইয়র্কে বসবাসরত টাঙ্গাইলবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন লতিফ সিদ্দিকী। ওই মতবিনিময় সভায় তিনি বলেছেন, ‘আব্দুল্লাহর পুত্র মোহাম্মদ চিন্তা করলো এ জাজিরাতুল আরবের লোকেরা কীভাবে চলবে? তারাতো ছিল ডাকাত। তখন সে একটা ব্যবস্থা করলো যে আমার অনুসারীরা প্রতিবছর একবার একসঙ্গে মিলিত হবে। এর মধ্যদিয়ে একটা আয়-ইনকামের ব্যবস্থা হবে।

আমি হজ আর তাবলিগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী, জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী, তবে তার চেয়েও বেশি বিরোধী হজ ও তাবলিগ জামাতের। ‘হজের জন্য ২০ লাখ লোক সৌদি আরবে গিয়েছে। এদের কোনো কাম নাই। এদের কোনো প্রডাকশন নাই। শুধু রিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা দিয়ে আসছে।

‘তাবলিগ জামাতে প্রতিবছর ২০ লাখ লোক জমায়েত করে। নিজেদেরতো কোনো কাজ নেই। সারা দেশের গাড়িঘোড়া তারা বন্ধ করে দেয়-মর্মে বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় সম্পর্কে বলেন, আপনারা কথায় কথায় জয় ভাইকে টানেন। জয়ভাই কে? সে বাংলাদেশ সরকারের কেউ না।’মামলায় বলা হয়, তার উক্ত বক্তব্য পৃথিবীর কোটি কোটি ইসলাম ধর্মের অনুসারী ব্যাক্তিগণের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। বাদীদ্বয় যেহেতু ইসলাম ধর্মের অনুসারী তাই তাদেরও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় সম্পর্কে যে বক্তব্য রেখেছেন তাও মানহানিকর।

ইআর