আল আমিন গ্রুপমের এমডি আনোয়ার মির্জার বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ৩০ একর সরকারি জমি বন্দোবস্ত নিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকে বন্ধক রেখে ১৮৬ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)।
দুদকের নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নিরাপদ স্বর্ণকার বাদী হয়ে গত ৩০ ডিসেম্বর সুধারাম মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ার মির্জা সরকারি জমি বন্দোবস্তের শর্ত ভঙ্গ করে ইসলামী ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডসহ (এসআইবিএল) বিভিন্ন ব্যাংক থেকে মোটা অংকের ঋণ নিয়েছেন।
জানা যায়, ১৯৯২ সালের দিকে আনোয়ার মির্জা ‘ফারহানা টেক্সটাইল মিলস ও নোয়াখালী অয়েল রিফাইনারি মিলস লিমিটেড' নামে দুটি প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য নোয়াখালীর বিনোদপুর, কাশিরামপুর, পশ্চিম কৃষ্ণপুর ও পূর্ব রামচন্দ্রপুর মৌজার বিভিন্ন দাগে ৩০ দশমিক ৪৬ একর ভূমি বন্দোবস্তের আবেদন করে।
১৯৯৪ সালের ৯ মে ৮৩২১ ও ৮৩২২ যুক্তে দুটি শর্ত সাপেক্ষ বন্দোবস্ত (কবুলিয়ত) দলিল সম্পাদন করেন নোয়াখালী জেলা প্রশাসক। ওই সময় শর্তে বলা ছিল, শিল্পনীতি ১৯৯১ অনুযায়ী, বেসরকারি খাতের জন্য বেসরকারি শিল্পকে বিনিয়োগ বোর্ডের কাছে নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিবন্ধিত হতে হবে।
কিন্তু আল-আমিন গ্রুপের এমডি আনোয়ার মির্জা উল্লিখিত দুটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের নামে বিনিয়োগ বোর্ডে কোনো প্রকার আবেদন করেননি এবং কোনো নিবন্ধনও নেননি।
অভিযোগে আরো বলা হয়, আনোয়ার মির্জা নোয়াখালী জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ৬০ কোটি ৯২ লাখ টাকার ৩০ দশমিক ৪৬ একর জমি বন্দোবস্ত নেন। তিনি ওই জমি আত্মসাতের উদ্দেশে বন্দোবস্তের শর্ত ভঙ্গ করে বিভিন্ন ব্যাংকে জমি বন্ধক রেখে মোটা অংকের ঋণ নিয়েছেন।
২০১০ সাল থেকে গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন একের পরএক বন্ধ হতে থাকে। ২০১৩ সালে এসে তাদের প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই বন্ধ হয়ে যায়। তিনি সরকারি সম্পদের বিপরীতে বেআইনিভাবে ঋণ নিয়ে ওই ঋণ অদ্যাবদি পরিশোধ করেননি।
জানা যায়, আল-আমিন সুপার বিস্কুট, রেইচি, কসমস, টুনি, পাইনাপেল, গ্লুকোজসহ ২১-২২ ধরনের বিস্কুট উৎপাদন করা হতো। পরে ভোজ্যতেল, বেভারেজ, ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করে গ্রুপটি।
এদিকে বন্দোবস্তের সব শর্তই ভঙ্গ: জমি বন্দোবস্ত নেয়ার সরকারের ১৭টি শর্ত ছিল। এর মধ্যে ‘জেলা প্রশাসকের অনুমোদন ব্যতীত আবেদিত শিল্প ছাড়া অন্য কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়া এবং ভূমির আকার পরিবর্তন করা যাবে না।
কোনো প্রকার বিল্ডিং করা যাবে না, লিজ জমিতে কবুলিয়ত রেজিস্ট্রারের তারিখ হতে এক বৎসরের মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠান স্থাপনের লক্ষ্যে সন্তোষজনক পদক্ষেপ জেলা প্রশাসককে দেখাতে হবে এবং উল্লেখিত সময়সীমার মধ্যে নির্মাণকাজ শুরু করতে ব্যর্থ হইলে বন্দোবস্ত সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে। একই সঙ্গে বন্দোবস্তের শর্ত মেনেই আল আমিন গ্রুপের এমডি একটি অঙ্গীকারপত্রে স্বাক্ষরও করেন।
একে





