মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের প্রাণভিক্ষার আবেদন আইনমন্ত্রণালয় থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে তার বাসভবন বঙ্গভবনে পৌঁছেছে।

যদিও প্রাণভিক্ষার বিষয়টি নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে তবে কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রণভিক্ষার আবেদেন দুটি শনিবার দুপুরে কারা কর্তৃপক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

স্বরাষ্ট্রসচিব ড. মোজাম্মেল হকের কাছে সেটি পৌঁছে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার আরিফুল ইসলাম।

এরপর আবেদন দুটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে আইনমন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এখন থেকে সেটি পাঠানো হয়েছে রাষ্ট্রপতির কাছে। প্রাণভিক্ষার আবেদনের বিষয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির কথা জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।

দুপুরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তাদের (সাকা-মুজাহিদ) আবেদন আজই রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে তিনি (রাষ্ট্রপতি) সিদ্ধান্ত নেবেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, অন্য ক্ষমা প্রার্থনার আবেদনের ক্ষেত্রে যে সময় লাগে, তাদের ক্ষেত্রে আরও কম সময় লাগবে।

এদিকে, শনিবার দুপুরে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন কিনা সে ব্যাপারে তার স্বামী দুদিন আগে সাক্ষাতের সময় কিছু বলেননি। তিনি আইনজীবীদের সাথে কথা বলতে চেয়েছিলেন।

কিন্তু সরকার আইনজীবী বা পরিবারের কারো সাথে তার স্বামীকে দেখা করতে দিচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেন সাকার স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী ।

সাকা চৌধুরী প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন কীনা-সাংবাদিকরা আবারও এমন প্রশ্ন করলে সাকার স্ত্রী জানান, এ ব্যাপারে আমরা কিভাবে সিদ্ধান্ত দেব, এটা একান্ত তার নিজস্ব বিষয়। আইনজীবীদের সাথে তাকে সাক্ষাতের সুযোগ দিলে বিষয়টি পরিস্কার হতো বলেও জানান ফরহাত কাদের চৌধুরী।

তবে, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের অপর এক সূত্রে জানা গেছে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন না বলে তাদেরকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন দুদিন আগেই। এরপর তার সাথে গত দুই দিনে পরিবারের কাউকে কিংবা আইনজীবীদের দেখা করতে দেয়া হয়নি।

পরিবারের ওই সূত্রটি আশংকা প্রকাশ করে বলেন, এখন প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছেন এবং রাষ্ট্রপতি তা খারিজ করেছেন-এমন তথ্য দিয়ে সালাউদ্দিনের ইমেজ নষ্ট করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

এদিকে, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এডভোকেটের নিকট জনাব আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ ক্ষমা চেয়েছেন’ মর্মে বিভিন্ন অনলাইন ও গণমাধ্যমে যে খবর প্রচারিত হচ্ছে তা বিভ্রান্তিকর ও অসত্য বলে তা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা: শফিকুর রহমান।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আইনজীবীগণ মুজাহিদের সাথে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে কারাকর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করেন। কারাকর্তৃপক্ষ মুজাহিদের ইচ্ছা অনুযায়ী এখনো আইনজীবীদেরকে সাক্ষাতের অনুমতি দেননি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে ক্ষমা চাওয়ার যে খবর প্রচারিত হচ্ছে তা সঠিক নয়।

কারাকর্তৃপক্ষকে মুজাহিদের সাথে আইনজীবীদেরকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সাক্ষাতের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, সৃষ্ট বিভ্রান্তি নিরসনের জন্য কারাকর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদানের আহ্বান জানাচ্ছি।

জামায়াতের বিবৃতিতে বলা হয়, আইনজীবীদের সাক্ষাৎ এবং কারা কর্তৃপক্ষের অফিসিয়াল বক্তব্য আসার আগে বিভ্রান্তিমূলক ও নোংড়া অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”

এমআর