জাতীয়তাবাদী সমর্থিত ‘ঢাকা সাংবাদিক বহুমুখী সমবায় সমিতিকে’নামমাত্র মূল্যে ওই জমি বরাদ্দের মামলায় বিএনপি নেতা ও সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবিসহ ২৩জনকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আগামী ২১ সেপ্টম্বও আলমগীর কবির এবং ২২ সেপ্টম্বর সাবেক সচিব ইকবাল উদ্দিনসহ ২২ জসকাল ৯ টায় সাবেক এ প্রতিমন্ত্রীকে দুদক উপ পরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা যতন কুমার রায়ের দফতরে হাজির হতে বলা হয়েছে।
আজ রোববার দুদক উপ-পরিচালক যতন কুমার রায় ওই ২৩জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলবি নোটিশ পাঠান। নোটিশ প্রাপ্তদের অন্যাদের মধ্যে রয়েছেন, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোঃ গোলাম নবী, গৃহায়ন ও গণ পূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ম সচিব বিজন কান্তি সরকার, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল বারী খান, সাবেক চেয়ারম্যান এটিএম আতাউর রহমান, সাবেক বোর্ড সদস্য খালেকুজ্জামান, সাবেক বোর্ড সদস্য ইকরামুজ্জামান, তত্ত্বাবধায়ক প্রাকৌশলী সুলতান আহমেদ, পূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সহকারি সচিব বেঞ্জামিন হায়দার, গৃহায়ন কর্তপক্ষের সাবেক উপ-পরিচালক (কর্তমানে বোর্ড সদস্য) মোঃ আজহারুল হক, হিসাব সহকারি মোঃ মতিয়ার রহমান এবং সাবেক ক্যাশিয়ার মনসুর আলম প্রমুখ।
জানা যায়, ২০০৬ সালে চারদলীয় জোট সরকার রাজধানীর পল্লবীতে ঢাকা সাংবাদিক বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের অনুকূলে ৩ কোটি ৩৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যে প্রায় ৭ একর বরাদ্দ দেয়া হয়। ওই জমির বাজারমূল্য প্রায় ১৮ কোটি ৯১ লাখ ৩০ হাজার ৯০০ টাকা । ফলে সরকার ১ হাজার ৫৫২ কোটি ৫০ হাজার ৯০০ টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এ বিষয়ে তৎকালীন সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত এসব কর্মকর্তাকে তলব করা হয়েছে।
এদিকে গত ৬ মার্চ মাহবাগ থানায় দুদক বাদী হয়ে ওই সমিতির নামে জমি বরাদ্দে নানা অনিয়ম এবং দুনীতির অভিযাগে সাবেক গৃহায়ণ প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবিরসহ সরকারের ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। ওই মামলার বাকি আসামিদের রয়েছেন ,সাবেক উপপরিচালক ভুমি সম্পদ ব্যবস্থাপক কর্তৃপক্ষ ও বর্তমান সদস্য জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ মো. আজহারুল হক, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কোষাধ্যক্ষ মনসুর আলম এবং জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান।
মামলা দায়েরের আগে দুদকের অনুসন্ধানী কর্মকর্তা উপ-পরিচালক যতন কুমার রায় গত বছর ২ অক্টোবর সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবিরকে জিজ্ঞানসাবাদ করেন।
এইক সঙ্গে ঢাকা সাংবাদিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের ২৮০ জন সদস্যের কাছেও চিঠি পাঠায় দুদকের অনুসন্ধানী কর্মকর্তা।
জানা যায়, দুদকের নোটিশে সমিতির সদস্য নম্বর, সদস্য হিসেবে প্লট/ ফ্ল্যাট পাবার জন্য যে অর্থ জমা দিয়েছেন , ওই অর্থের রশিদ এবং ওই অর্র্থ বছরের আয়কর রিটান দাখিরের সত্যায়িত ফটোকপি দাখিল করতে বলা হয়েছে। গত বছর সেপ্টম্বর মাসে সমিতির ৩৫ জন নিরীহ সদস্য দুদকের অনুসন্ধানী কর্মকর্তার সঙ্গে দুদক কার্যালয়ে হাজির হয়ে তাদের বক্তব্য দিয়েছেন। পরে সমিতির কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত নিয়ে সব সদস্যের নামের তালিকাসহ দুদকের চিঠির চাহিদা মোতাবেক কিছু তথ্য উপাত্ত সরবরাহ করা হয়।
সমিতির সদস্যদের নামের খসড়া তালিকা প্রথমে মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়। তবে ওই তালিকায় সমিতির সব সদস্যের নাম ছিল। সরকার থেকে ৭ একর জমি বরাদ্দ পাবার পরে সমিতির কর্মকর্তারা ২৮০ জন সদস্যের কাছ থেকে জনপ্রতি ২ লাখ ১০ হাজার টাকা নিয়ে তাদেরকে সমিতির চ’ড়ান্ত সদস্য হিসেবে তালিকায় অন্তভুক্ত বরা হয়।
ঢাকা, একে, ১৪ সেপ্টম্বর. টাইমনিউজবিডি.কম,জেডআই





