বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপ অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্টের রায় দুই মাসের জন্য স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত।
আজ বুধবার রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চেম্বার বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার এ আদেশ দেন।
গত সোমবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ অবৈধ ঘোষণা করেন।
একইসঙ্গে সরকারি দুটি প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছ থেকে যে কর আদায় করা হয়েছে তা ফেরত দিতে সরকার ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
২০০৭ সালের ২৮ জুন ও ২০১০ সালের ১ জুলাই রাজস্ব বোর্ড দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপন দুটি সংবিধানের ১৫, ১৭, ২৭, ৩১, ৩২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। এমনকি ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশের ৪৪ (৪) (বি)-এর পরিপন্থী।
সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব পরিকল্পিত অর্থনৈতিক বিকাশের মাধ্যমে উৎপাদনশক্তির ক্রমবৃদ্ধিসাধন এবং জনগণের জীবনযাত্রার বস্তুগত ও সংস্কৃতিগত মানের দৃঢ় উন্নতি সাধন,যাতে নাগরিকদের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ অর্জন নিশ্চিত করা যায়।
এ অনুচ্ছেদের (ক) উপধারায় বলা হয়েছে, ‘অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়,শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা।’
হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাজ রুটিন ওয়ার্ক করা। কিন্তু তারা এ ধরনের ভ্যাট আরোপের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। ২০০৭ সালে ২৮ জুন বিগত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার সময়ে ও ২০১০ সালের ১ জুলাই রাজস্ব বোর্ড প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আয়ের ওপর ১৫ ভাগ করারোপ করা হয়। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে সরকারের এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়।
পরে রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৭ সালে ডিসেম্বর মাসে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। এ রুল জারির পর আরো একাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হাইকোর্টে বেশ কয়েকটি রিট করে।
এমবি
















