রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় আদালতের সমন গ্রহণ না করায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসার গেটে সমনের নোটিশ সাঁটিয়ে দিয়েছেন আদালতের কর্মকর্তা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫মিনিটের দিকে আদালতের কর্মকর্তারা খালেদার বিরুদ্ধে সমন নিয়ে গুলশানের বাসায় যান। কিন্তু বাসার কেউ সমন গ্রহণ না করায় গেটে এই সমনের কপি ঝুলিয়ে দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

পরে সন্ধ্যার সাড়ে ছয়টার দিকে খালেদা জিয়ার বাসভবনের সামনে গিয়ে দেখা যায়, ফিরোজার গেটে আদালতের সমনের কপি ঝুলছে।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে দণ্ডবিধির ১২৩(ক)/১২৪(ক)/৫০৫ ধারায় একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করেন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট ড. মোমতাজউদ্দিন আহমদ মেহেদী।

পরে বিচারক মো. রাশেদ তালুকদার মামলাটি গ্রহণ করে খালেদা জিয়াকে আগামী ৩ মার্চ আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন। সেই সমন নিয়ে আজ সন্ধ্যায় আদালতের কর্মকর্তারা খালেদার গুলশানের বাসায় আসেন।

এর আগে ২১ জানুয়ারি তিনি মামলা করার জন্য নিয়মানুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেন।

মামলায় বলা হয়, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। এ ছাড়া জাতির পিতা ও আওয়ামী লীগ নিয়েও বিরূপ মন্তব্য করেছেন তিনি। এটা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল বলে মনে করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আইনি নোটিশ দেওয়ার পরও তিনি ক্ষমা চাননি বা বক্তব্য প্রত্যাহার করেননি।

তবে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে খালেদা জিয়ার বক্তব্যে রাষ্ট্রদ্রোহের কিছু নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন।

গত বছরের ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে খালেদা জিয়া বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে। আজকে বলা হয়, এত লাখ লোক শহীদ হয়েছে। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে।’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ না করে খালেদা জিয়া দাবি করেন, তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না।’

এ বিষয়ে বাদী বলেন, খালেদা জিয়ার এই বক্তব্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল ঘোষণাপত্রের পরিপন্থিই নয় দেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করে বর্তমান সরকারের প্রতি ঘৃণার সঞ্চায় করেছেন। যা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। যা দণ্ডবিধির ১২৩(ক), ১২৪ (ক) এবং ৫০৫ ধারার অপরাধ।

এসএইচ