বিচারপ্রার্থী নারীদের জন্য দেশের তিন জেলা আদালতে নির্মাণ করা হয়েছে বিশ্রামাগার। জেলাগুলো হলো- ঢাকা, রাঙ্গামাটি ও কিশোরগঞ্জ।

জুডিশিয়াল স্ট্রেনদেনিং প্রজেক্টের আওতায় বিশ্রামাগার নির্মাণে অর্থায়ন করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন প্রকল্প।

বিচারপ্রার্থী নারীরা যাতে অন্যান্যদের সঙ্গে আলোচনা, অবসর কাটানো, বাচ্চাকে খাওয়ানো, ওয়াশ রুম ব্যবহারসহ প্রয়োজনীয় কাজ করতে পারেন সে জন্যই বিশ্রামাগার নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

বিচার বিভাগের উন্নতি, বিচার পদ্ধতিকে সহজ ও আধুনিক করতে ২০১২ সালে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে জাতিসংঘ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় জুডিশিয়াল স্ট্রেনদেনিং প্রজেক্টের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার প্রাথমিক মেয়াদ ছিল এ বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরবর্তী সময়ে চুক্তির মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হয়।

প্রকল্প পরিচালক বিচারক কুদ্দুস জামান বলেন, ‘দেশে এই প্রথম নারী বিচারপ্রার্থীদের জন্য আদালতে বিশ্রামাগার তৈরি করা হয়েছে। নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ নারীদের আইনি অধিকার লাভে উৎসাহিত করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের সকল জেলায় এমন বিশ্রামাগার তৈরিতে সরকারের উদ্যোগ নেয়া উচিত। প্রতিটি আদালতে এ রকম বিশ্রামাগার তৈরি হলে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমবে।’

কিশোরগঞ্জের বিশ্রামাগারটি উদ্বোধন করা হয় গত বছর। এ বছর ঢাকা ও রাঙ্গামাটিতেও বিশ্রামাগার উদ্বোধন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলা আদালত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এগুলো দেখাশোনা করা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জ জেলা আদালতে আসা বিচারপ্রার্থী জেসমিন আকতার বলেন, ‘২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে একটি মামলার শুনানির জন্য ছোট ছেলেকে নিয়ে আদালতে আসি। ছেলেকে দুধ খাওয়ানো প্রয়োজন কিন্তু চারপাশের পরিবেশ খোলামেলা হওয়ায় সময়মতো বাচ্চাকে দুধ খাওয়াতে পারিনি। বিষয়টি আমার জন্য অস্বস্তিকর ছিল।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্রামাগারটি আমাদের জন্য সত্যিই উপকারী। এখানে বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর সুবিধা রয়েছে, বসার জন্যও রয়েছে পর্যাপ্ত জায়গা।’

ঢাকা জেলা আদালতে আসা সুলতানা জাহান বলেন, ‘স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ বুঝে নিতে আদালতে মামলা করেছি। শুনানির জন্য কয়েক দিন পরপরই আদালতে আসতে হয়।

আদালতে এসেও নানা সময় হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। শুনানি শুরু হওয়া পর্যন্ত অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। বসার জায়গা পাওয়া যেত না, হাতের কাছে বাথরুম ব্যবহারের ব্যবস্থা ছিল না। নারী বিচারপ্রার্থীদের প্রতি পদে কত যে দুর্ভোগ পোহাতে হয় তা আদালতে না এলে বোঝা যাবে না।’
বিশ্রামাগারের সুবিধা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বিশ্রামাগার তৈরি একটি মহৎ উদ্যোগ। আলাদা বাথরুমের ব্যবস্থা থাকায় এখন আর পুরুষদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়াতে হয় না। নারীরা বিশ্রামাগারে নিরাপদে বসার সুযোগ পাচ্ছেন।’

সুলতানা জাহান আরও বলেন, ‘বিশ্রামাগারে বসে বিচারপ্রার্থী নারীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে মামলা পরিচালনায় আমার আগ্রহ বেড়েছে। নিজের আইনি অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে পেরেছি।’

জুডিশিয়াল স্ট্রেনদেনিং প্রজেক্টের (জাস্ট) দফতর সূত্রে জানা গেছে, বিশ্রামাগার স্থাপন উদ্যোগের কারণে আদালতে মামলার শুনানিতে উপস্থিত নারীর সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে।

পাইলট জেলাগুলোতে গত বছরের তুলনায় এ বছর সুবিচারের আশায় ২০ শতাংশ নারীদের মামলার হার বেড়েছে। আদালতে আসা নারীদের মধ্যে ৬০ শতাংশ নারী নিয়মিতভাবে বিশ্রামাগার ব্যবহার করছে।

জাস্টের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রায় ৯১ শতাংশ নারী আদালতে আসা-যাওয়া অস্বস্তিকর মনে করেন। এ কারণে তারা বিভিন্ন অপরাধের আইনি প্রতিকার পান না। বিশ্রামাগার স্থাপনের ফলে বাকি ৯ ভাগের ১০০ শতাংশ নারী আদালতে আসাকে সুবিধাজনক মনে করছেন।

ঢাকা,কেএ, ২৮ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম,জেএ