এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ সম্বলিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন উঠার পর পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার দুদকের ২ কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ও কমিশনার ড. মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ এ সিদ্ধান্ত নেন। একই সঙ্গে ওই অভিযোগের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি পুনরায় খতিয়ে দেখার জন্য দুদকের অপর এক উপ পরিচালককে দায়িত্ব দেয়া হয়।
কারণ জুলফিকার আলী এর আগে ৪ সচিবের মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির অভিযোগও অনুসন্ধান করেন। প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সচিবদের বিরুদ্ধে সনদ বাতিল ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন। আর ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা এবং সনদ জালিয়াতির বিষয়ে অনুসন্ধানে বেশ অভিজ্ঞ বলে জানা যায়।
এদিকে গত ২৯ অক্টোবর এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করেন উপ-পরিচালক মোঃ ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারি।
তবে আজ রোববার তার দাখিলকৃত প্রতিবেদনটি যাছাই বাছাইয়ের জন্য উপ-পরিচালক মোঃ জুলফিকার আলীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
জানা যায়, গত ২৩ অক্টোবর দুদকের উপপরচিালক ফরিদ আহমদে পাটোয়ারী এলজিইডির প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমানকে মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতি এবং এ সনদ ব্যবহার করে সুবিধা নেয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওই দিন তিনি দুদক থেকে ছাত্র লীগ ও যুবলীগের ক্যাডার প্রহরায় বেরিয়ে যান।
দুদকে অভিযোগ রয়েছে, ওয়াহিদুর রহমান চাকরিতে যোগদানের সময় নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা দেন। মুক্তিবার্তার লাল বইয়ে তার নাম নেই। তিনি কোন ট্রেনিং ক্যাম্পে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেছেন, কোন সেক্টরে কোন অধিনায়ক বা কমান্ডারের অধীনে যুদ্ধ করেছেন, এ সর্ম্পকিত কোনো প্রমাণাদিও নাই।
এলজিইডি’র এ প্রধান প্রকৌশলী বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরির সময়সীমা বৃদ্ধি,জালিয়াতির মাধ্যমে সংগৃহিত সনদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতার অভিযোগ আসে দুদকে।
একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান এস.এম. মোরতুজা হোসেন ও মাহবুবুল হক চিশতির মুক্তিযোদ্ধা সনদও ভুয়া-মর্মে অভিযোগ আসে দুদকে।কমিশন এটি যাচাই-বাছাই করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়।
অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয় দুদকের উপ-পরিচালক মোঃ ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারিকে। এতে ওয়াহিদুর রহমানসহ তিনজনের ‘মুক্তিযোদ্ধা সনদ’বাতিল, বিভাগীয় ব্যবস্থাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন।
তবে প্রশ্ন উঠেছে, দাখিলকৃত সুপারিশ কমিশন পর্যালোচনা করে এতে ওয়াহিদুর রহমান ও অন্য দু’জনের বিরুদ্ধে সরাসরি মামলা রুজুর উপাদান খুঁজে পায় বলে সূত্র জানায়। ফলে তাদের বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় দুদক সরাসরি মামলা করবে, না-কি শুধুমাত্র সনদ বাতিলসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে-এ নিয়ে সৃষ্টি হয় মতদ্বৈততা।
এক প্রকার সিদ্ধান্তহীনতায় বিষয়টি এক সপ্তাহ পড়েছিলো কমিশনের টেবিলে। এরই এক পর্যায়ে আজ রোববার কমিশনের দুই সদস্য (চেয়ারম্যান) মোঃ বদিউজ্জামান এবং কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. নাসির উদ্দীন আহমেদ প্রতিবেদনটি পর্যালোচনায় দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পর্যালোচনার দায়িত্ব দেন উপ-পরিচালক মোঃ জুলফিকার আলীকে।
একে/এসএইচ





