একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে যশোরের সাবেক সাংসদ সাখাওয়াত হোসেনসহ আটজনের বিরুদ্ধে করা মামলার রায় আজ বুধবার ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করবেন।

ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি জেয়াদ আল মালুম গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, সাখাওয়াত হোসেনসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলার রায় আজ ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনাল। গত ১৪ জুলাই এই মামলায় যুক্তি উপস্থাপন শেষে ট্রাইব্যুনাল রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন।

এ মামলার অন্য সাতজন আসামি হলেন বিল্লাল হোসেন বিশ্বাস, ইব্রাহিম হোসাইন, শেখ মো. মজিবুর রহমান, এম এ আজিজ সরদার, আবদুল আজিজ সরদার, কাজী ওহিদুল ইসলাম ও আবদুল খালেক। আসামিদের মধ্যে সাখাওয়াত হোসেন ও বিল্লাল হোসেন কারাগারে আছেন। বাকি ছয়জন মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

রাষ্ট্রপক্ষ বলেছে, গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর সাখাওয়াত হোসেনসহ নয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ গঠন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ গঠনের আদেশে নয়জনের বিরুদ্ধে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে যশোরের কেশবপুরে হত্যা, ধর্ষণ, আটক, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠন প্রভৃতি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।

এই নয়জনের মধ্যে এক আসামি লুৎফর মোড়ল কারাবন্দী থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে মারা যান।

চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন কৌঁসুলি জেয়াদ-আল-মালুম ও রেজিয়া সুলতানা। সাখাওয়াত ও বিল্লালের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আবদুস সাত্তার পালোয়ান। লুৎফর ও অন্য ছয় পলাতক আসামির পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আবদুস শুকুর খান ও কুতুব উদ্দিন আহমেদ।

রাষ্ট্রপক্ষ বলেছে, যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের সাবেক সাংসদ সাখাওয়াত হোসেন বাংলাদেশের প্রধান কয়েকটি রাজনৈতিক দলে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে সাংসদ নির্বাচিত হন। পরে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে

মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হন। এরপর বিএনপি তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করলে তিনি অলি আহমদের এলডিপিতে এবং পরে ফেরদৌস আহম্মেদ কোরেশীর পিডিপিতে যোগ দিয়েছিলেন। সর্বশেষ ছিলেন এইচ এম এরশাদের জাতীয় পার্টিতে প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে। জাতীয় পার্টিও তাঁকে প্রেসিডিয়াম থেকে বাদ দিয়েছে।

এমবিএইচ