ভারতের সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহ করে বিক্রির জন্য রাজধানীতে নিয়ে আসে একটি চক্র। চক্রটি কয়েক বছর ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানা এলাকা থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে ঢাকায় নিয়ে আসে।

এ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগের ডেমরা জোনাল টিম।

গ্রেফতাররা হলেন- মো. জানিবুল ইসলাম জোসি ও মো. বাসির আলী। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি পিস্তল, ৮ রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।

আজ মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার।

তিনি বলেন, রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে গতকাল সোমবার রাতে দুটি অস্ত্র ও গুলিসহ দুজন অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারদের মধ্যে জানিবুল ইসলাম জোসি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের ফ্রন্টলাইনার ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও শিবগঞ্জ থানায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

ডিবি প্রধান বলেন, ভারতের সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহ করে বিক্রির জন্য রাজধানীতে নিয়ে আসে এই চক্র।

তারা কয়েক বছর ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ এলাকা থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে ঢাকায় নিয়ে আসে। এই অস্ত্র ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় মামলা হয়েছে।

তিনি বলেন, গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মাদ আশরাফ হোসেনের দিক নির্দেশনায় অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. তরিকুর রহমানের তত্ত্বাবধানে ডেমরা জোনাল টিমের টিম লিডার অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আজহারুল ইসলাম মুকুলের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অপর আরেকটি অভিযানের বিষয়ে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, সোমবার রাতে যাত্রাবাড়ী থানাধীন কাজলা এলাকা থেকে অজ্ঞান ও মলম পার্টির ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।

এ চক্রটি অটোরিকশা চালক, মোটরসাইকেল চালক, প্রাইভেটকার চালক ও যাত্রীদের সু-কৌশলে মধুর সঙ্গে চেতনানাশক ট্যাবলেট মিশিয়ে বিস্কুট, কলা, চা, জুস ও ফাস্টফুড জাতীয় খাবারের মাধ্যমে খাইয়ে দামি গাড়ি ও মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নিত।

গ্রেফতাররা হলেন- মো. মাসুদ মিয়া ওরফে মাসুদ রানা, মো. সুমন কারাল ওরফে সুমন ফকির, মো. শাহিন ওরফে শামিম গাজী, শাওন ও মো. সজল।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ৯০টি চেতনানাশক ট্যাবলেট, অজ্ঞান ও মলম পার্টির কাজে ব্যবহৃত মধুর কৌটা, দুটি মোটরসাইকেল ও একটি প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান ডিবির এই কর্মকর্তা।

এইচএন