বাংলাদেশ রেলওয়ের রেলওয়ের দুর্নীতি ও নিয়োগ বানিজ্যের আরো এক মামলার অভিযোগ থেকে সাবেক ডিজি ইউসুফ আলী মৃধাকে মুক্তি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

একই সঙ্গে ওই মামলার বাকী আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিলের অনুমতি দিয়েছে দুদক।

সম্প্রতি কমিশন অত্যন্ত গোপনীয়তার বজায় লেখে তদন্ত কর্মকর্তার সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার প্রধান আসামি সাবেক ডিজি ইউসুফ আলী মৃধাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এর আগে আরো ৪ মামলার অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৭ এপ্রিল চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় মামলা করে দুদক। মামলায় রেলওয়ের (চট্টগ্রাম-পূর্বাঞ্চল) ডিজি ইউসুফ আলী মৃধা, সিনিয়র ওয়েলফেয়ার অফিসার (এসডব্লিউও/পূর্ব), নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়া ও বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি চিলড্রেন পার্ক উচ্চ বিদ্যালয়ের শরীর চর্চা শিক্ষক চন্দন কুমার রায়কে আসামি করা হয়।

পরে মামলাটি তদন্ত করেন উপ-সহকারি পরিচালক হাফিজুর রহমান। তদন্ত শেষে সম্প্রতি তিনি এজাহারভুক্ত আসামি ইউসুফ আলী মৃধাকে অব্যাহতির সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউসুফ আলী মৃধা নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন না। দৈনন্দিন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শুধু নিয়োগ অনুমোদন করেছেন। নিয়োগ-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ তদন্তে মেলেনি।

জানা যায়, ২০১৪ সালের জুলাই মাসে ইউসুফ আলী মৃধাকে আরও ৩ মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক। ২০১৩ সালের ১৭ এপ্রিল চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় মামলাগুলো দায়ের করে দুদক।

মামলার এজাহারে বাংলাদেশ রেলওয়েতে সিনিয়র ডাটা এন্ট্রি কন্ট্রোল অপারেটর, কার্পেন্টার ও কোর্ট ইন্সপেক্টর পদে নিয়োগে অর্থ আদায়ের অভিযোগ আনা হয়।

২০১৩ সালে ১৯ অক্টোবর চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় ইউসুফ আলী মৃধার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা হয়। গতবছর জুনে আদালতে ওইসব মামলার চার্জশিটদাখিল করা হয়।

সূত্র মতে, ২০১২ সালের ৯ এপ্রিল তৎকালীন রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের এপিএস ওমর ফারুকের গাড়ি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দফতরে আকস্মিকভাবে ঢুকে পড়ে। ওই গাড়ি থেকে ৭০ লাখ টাকা উদ্ধার করে বিজিবি। ওই সময় গাড়িতে ইউসুফ আলী মৃধা ও রেলের নিরাপত্তা বাহিনীর ঢাকা বিভাগীয় কমান্ড্যান্ট এনামুল হক ছিলেন।

আর ঘটনার জের ধরে মন্ত্রিত্ব হারান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। সাময়িক বরখাস্ত হন মৃধা, এনামুল সহ আরো কয়েকজন। ঘটনার পর আত্মগোপনে চলে যান এপিএস ফারুকের ওই গাড়িচালক আজম। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে না পারার কারণ দেখিয়ে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় সাবেক রেলপথমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত এমপিকে।
একে