মাহিয়া (ছদ্মনাম) বর্তমানে রাজধানীর একটি নামি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীর ছাত্রী। তিনি সম্প্রতি একটি জটিল সমস্যায় পড়েছেন।

তিনি বলেন, 'আমার তিন বছর আগে একটা প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তখন আমরা আরো ছোট ছিলাম, বয়স কম ছিল। তখন আমরা কিছু ছবি মেসেঞ্জারে আদান-প্রদান করেছিলাম। গোপন, কিছুটা আপত্তিকর বলা চলে।'

সেই প্রেমও ভেঙে গেছে বহুদিন হয়। মাহিয়া ভুলে গেছে সবকিছু। সেই প্রেমিকের সঙ্গেও এখন ভালো সম্পর্ক। বলতে গেলে বন্ধুর মতোই পাশে তাকে। কিন্তু অবুঝ বয়সের সেই প্রেম নিয়ে এখন তৈরি হয়েছে দুর্বিসহ অবস্থা।

একদিন ফেসবুকের একটি ফেক আইডি থেকে মাহিয়ার কাছে বার্তা আসে, 'আপনার ছবি আছে আমাদের কাছে। বিকাশে পাঁচ হাজার টাকা পাঠান, নইলে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেব।'

মাহিয়া তো জানেন, আইডিটি ভুয়া হলেও ছবিগুলো বাস্তব। তিন বছর আগে ফেসবুকে পাঠানো সেই 'কিছুটা আপত্তিকর' ছবি।

তার সেই পুরনো প্রেমিক জড়িত নন তো এর সঙ্গে? সন্দেহ হওয়ায় ঘটনার পরপরই তাকে ফোন করে সব খুলে বলেন। সাবেক প্রেমিক মাহিয়ার কলেজের সামনে এসে তার সঙ্গে দেখা করেন, প্রতিশ্রুতি দেন এর সমাধান করবেন।

সাবেক প্রেমিক বলেন, 'আমার নিজের ছবিও সেখানে আছে। আমার সম্মানও যুক্ত এর সঙ্গে।'

মাহিয়া বুঝতে পারেন তৃতীয় কোনো ব্যক্তির খপ্পরে পড়েছেন তারা। এদিকে তারা ব্যাপারটা সুরাহাও করতে পারছেন না, আবার অভিভাবকদের লজ্জায় জানাতেও পারছেন না। অন্যদিকে পুলিশের কাছেও যাওয়া যাচ্ছে না, কারণ তাতে বাবা-মা জেনে যাবেন।

তারা একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির দ্বারস্থ হন সমাধানের জন্য। তারা সাইবার অপরাধ নিয়ে নানান কাজ করে থাকেন। তারাই বিষয়টিকে একটি অসমাপ্ত সমাধান এনে দেন।

ঘটনা আপাতত এ পর্যন্ত। তবে মাহিয়া কিন্তু নিরুদ্বিগ্ন হতে পারেনি।

বাংলাদেশ যখন প্রতিনিয়ত ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে পূর্ণাঙ্গভাবে ডিজিটাল হবার পথে, তখন সমানতালেই বাড়ছে ভয়ঙ্কর সাইবার অপরাধের ঝুঁকি।

অপরাধগুলো এখন আর টিভির পর্দার বা থ্রিলার সিনেমার বিষয়বস্তু নেই। আপনার আমার আশপাশেই ঘটছে, প্রতিনিয়তই।

মেসেঞ্জারে বা ভাইবারে বন্ধুকে বা প্রেমিক-প্রেমিকাকে দুষ্টুমি করে খোলামেলা ছবি দিয়ে নিজের বিপদ ডেকে আনছেন অনেকেই। এসব ক্ষেত্রে যে ওই সাবেক প্রেমিক বা বন্ধুটিই অপরাধ করবে তা নয়। তৃতীয় কোনো পক্ষও আপনাদের প্রযুক্তি অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে সর্বনাশ করতে পারে।

মাহিয়ার মতো ঘটনা থেকে বাঁচতে করণীয় কী এ ব্যাপারে 'ক্রাইম রিসার্চ অ্যান্ড এনালিসিস ফাউন্ডেশন' - ক্র্যাফের উদ্যোক্তা সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মিনহার মোহসিন উদ্দিন বলেন, এ ধরনের অপরাধের হাত থেকে বাঁচতে প্রযুক্তির সঠিক, সতর্ক ও সচেতন ব্যবহারে সচেষ্ট হতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, 'কিশোর-কিশোরীরাই হচ্ছে সাইবার ক্রাইমের প্রধান শিকার। এদের দুর্দশার মূল কারণ হচ্ছে ফেসবুকের অসচেতন ও অসতর্ক ব্যবহার। আর এক শ্রেণীর অপরাধীরা এদের এই দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে।'

সূত্র: বিবিসি