পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানীতে আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে অজ্ঞান পার্টি।

ইতোমধ্যে সাতক্ষীরার এক আইনপবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানীতে আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে অজ্ঞান পার্টি।জীবী অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে হারিয়েছেন নগদ লক্ষাধিক টাকা, স্বর্ণের আংটি ও ৩০ হাজার টাকা মূল্যের মোবাইল সেট।

বর্তমানে সেই আইনজীবী আশরাফ হোসেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন। তিনি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মির্জাপুর এলাকার বাসিন্দা। তাছাড়া খুলনার নিরালা আবাসিক এলাকায় আরেকটি বাসা রয়েছে এই আইনজীবীর।

এদের খপ্পরে পড়ে গতকাল সোমবার পর্যন্ত চলতি মাসের ২৯ দিনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ও চিকিৎসা নিয়েছেন ৩৮৪ জন। তাঁদের মধ্যে গত সপ্তাহে দুজন মারা গেছেন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকা ও আশপাশে অজ্ঞান পার্টির ১২টি চক্র সক্রিয় রয়েছে। ঈদ ও দুর্গাপূজা সামনে রেখে নগদ টাকা বহন এবং এর ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় অজ্ঞান পার্টির তৎপরতাও বেড়েছে। তবে কারও মৃত্যু না হলে এসব ঘটনায় মামলা তেমন হয় না বলে জানা গেছে।

পুলিশ বলেছে, অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে ডিবির চারটি দল। গত কয়েক দিনে ১১ জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার বেনজীর আহমেদের সভাপতিত্বে গত মঙ্গলবার এক সভায় অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

পুলিশ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে হাসপাতালে আসা মানুষের সংখ্যা চলতি মাসে বেড়েছে।

প্রতিদিনই কয়েকজন করে এমন রোগী আসছে। গতকাল রাত নয়টা পর্যন্ত চলতি মাসের ২৯ দিনে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে ঢাকা মেডিকেলে এসেছে ৩৮৪ জন। এর মধ্যে ২২ সেপ্টেম্বর গোলাপবাগে ভাইয়ের কাছে বেড়াতে এসে অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে মারা যান কলেজছাত্র মো. সোহাগ (১৯)।

আর ২৪ সেপ্টেম্বর প্রাণ হারান ঢাকা-চট্টগ্রাম পথের মেইল ট্রেনের চালক সোলেমান খান (৫০)। সেদিন শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির বাসা থেকে বের হওয়ার পর বিকেল পাঁচটার দিকে তাঁকে মগবাজার থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন এক পথচারী। রাতে তিনি মারা যান।

ডিবির অতিরিক্ত উপকমিপুলিশ জানায়, এসব ঘটনার শিকার ব্যক্তিরা সুস্থ হয়ে থানায় মামলা না করেই বাড়ি চলে যান। তাঁদের স্বজনেরাও মামলা করেন না।শনিবার মাহফুজুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, ঘটনার বিষয়ে মামলা না হওয়ায় তদন্তও হয় না।

কেউ গ্রেপ্তারও হয় না। তাঁরা অভিযান চালিয়ে অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের গ্রেপ্তার করেন। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা টাকা ও ওষুধের ভিত্তিতে দস্যুতা ও মাদক আইনে মামলা করা হয়।


অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়া রোগীদের ওপর সম্প্রতি গবেষণা করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকেরা।

চিকিৎসকদের সূত্র জানায়, গবেষণায় দেখা গেছে, এমন রোগীদের অধিকাংশ ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার ‘ডায়াজিপিন’ ট্যাবলেট কিংবা সিরাপ সেবন করানো হয়েছে। এসব ওষুধ ডায়াবেটিস ও লিভারে সমস্যাগ্রস্ত রোগীদের জন্য মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ডিবির সূত্র জানায়, রাজধানীতে ডিবির চার বিভাগে চারজন অতিরিক্ত উপকমিশনারের তত্ত্বাবধানে গঠন হওয়া চারটি দল অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা বন্ধে অভিযান চালাচ্ছে।

অভিযান পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. ছানোয়ার হোসেন ও মাহফুজুল ইসলাম বলেন, ধরা পড়া দুর্বৃত্তরা বলেছে, তারা উচ্চক্ষমতার ঘুমের বড়ি পানিতে গুলে বা চা, শরবত, ডাবের পানি, ভাত, জুসের প্যাকেট, শসা, কোমলপানীয়, পান, ঝালমুড়ি, ক্রিম দেওয়া বিস্কুটে মিশিয়ে কৌশলে মানুষকে খাইয়ে অজ্ঞান করে সব লুটে নেয়।

এএস