মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জাতীয় পার্টির সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে শেষ হবে কায়সারের মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া। পরে আইন অনুসারে মামলার রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখবেন ট্রাইব্যুনাল। আগামীকাল বুধবার রাষ্ট্রপক্ষের জবাব ও সমাপনী যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ সময় ধার্য করেন। এদিন আধা ঘণ্টার মধ্যে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করারও আদেশ দেয়া হয়েছে।

সপ্তম ও শেষ কার্যদিবসে কায়সারের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন তার সিনিয়র আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও আব্দুস সোবহান তরফদার। তারা কায়সারের বিরুদ্ধে ১৬টি অভিযোগের মধ্যে সর্বশেষ অভিযোগে ঘটনাভিত্তিক ও সবশেষে আইনি পয়েন্টে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন।

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত, তুরিন আফরোজ ও আলতাফ হোসেন।

গত ৭ আগস্ট থেকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আসামিপক্ষ। এর আগে গত ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত মোট ৫ কার্যদিবসে কায়সারের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, জেয়াদ আল মালুম ও তাপস কান্তি বল।

গত ৯ মার্চ থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত কায়সারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) মনোয়ারা বেগমসহ রাষ্ট্রপক্ষের ৩২ জন সাক্ষী। তাদের মধ্যে কায়সারের বিরুদ্ধে আনা ১৬টি অভিযোগের ওপর সাক্ষ্য দিয়েছেন ২৮ জন সাক্ষী।তাদেরকে জেরা করেছেন আসামিপক্ষ। অন্যদিকে আসামিপক্ষ কোনো সাফাই সাক্ষী হাজির করতে পারেননি।

গত ৪ মার্চ কায়সারের বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম।গত ২ ফেব্রুয়ারি সৈয়দ কায়সারের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। কায়সারকে গণহত্যার একটি, হত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের ১৩টি এবং ধর্ষণের দুটিসহ মোট ১৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত কায়সারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পক্ষে এবং ২৬ ডিসেম্বর ও গত ১৩ জানুয়ারি অভিযোগ গঠন না করার পক্ষে আসামিপক্ষে শুনানি করেন আবদুস সোবহান তরফদার।

গত বছরের ১৪ নভেম্বর কায়সারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। ১০ নভেম্বর রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে ২ হাজার ৪শ’ ৪৭ পৃষ্ঠার এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, জেয়াদ আল মালুম, তাপস কান্তি বল ও রেজিয়া সুলতানা চমন।আনুষ্ঠানিক অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ১৮টি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্য থেকে ১৬টি অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হয়।

গত বছরের ৫ আগস্ট শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়ে বর্তমানে রাজধানীতে ছেলের বাসায় রয়েছেন কায়সার। কায়সার হচ্ছেন দ্বিতীয় কোনো আসামি যাকে জামিনে রেখে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকাজ পরিচালিত হচ্ছে।

এর আগে গত ১৫ মে প্রসিকিউশনের আবেদনের ভিত্তিতে কায়সারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।

কায়সারের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তরে সৈয়দ কায়সার প্রথমে হবিগঞ্জ মহাকুমা শান্তি কমিটির সদস্য ও রাজাকার কমান্ডার ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি ৫০০/৭০০ স্বাধীনতাবিরোধী লোক নিয়ে নিজের নামে ‘কায়সার বাহিনী’ নামে পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতা করার জন্য একটি সহযোগী বাহিনী গঠন করেন।

তিনি নিজে ওই বাহিনীর প্রধান ছিলেন। ‘কায়সার বাহিনী’ নামাঙ্কিত এ বাহিনীর নিজস্ব ইউনিফরমও ছিল।কায়সার এ বাহিনীর মাধ্যমে হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বৃহত্তর কুমিল্লায় হত্যা, গণহত্যা, মুক্তিযোদ্ধা হত্যা, ধর্ষণ, হামলা, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালান।

ঢাকা, কেএ, ১৯ আগষ্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এআর