রাজধানীর জিগাতলায় অভিযান চালিয়ে ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) অধীনে কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের মূলহোতাসহ ১৫ জনকে আটক করেছে র্যাব।
শুক্রবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে পরীক্ষা চলাকালীন র্যাব-২ এর একটি টিম তাদের আটক করে বলে জানিয়েছেন র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার সিনিয়র সহকারী পরিচালক মাকসুদুল আলম।
মাকসুদুল আলম জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় চক্রটির তিনটি গ্রুপ সক্রিয় থাকে। তাদের ভিন্ন ভিন্ন দায়িত্ব থাকে। তিনটি গ্রুপের কার্যক্রমও তিনি জানিয়েছেন।
প্রথম গ্রুপটি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষায় পাসের নিশ্চয়তা দিয়ে পরীক্ষার্থী সংগ্রহ করে। এই গ্রুপটি অত্যন্ত সর্তকতার সঙ্গে আগ্রহী পরীক্ষার্থীদের তালিকা তৈরি করে।
দ্বিতীয় গ্রুপটির দায়িত্ব প্রশ্ন ফাঁস করা। এ কাজটি তারা দুইভাবে করে। প্রশ্নপত্র প্রিন্টিং প্রেস থেকে বের করা অথবা পরীক্ষার হল থেকে বের করা। এক্ষেত্রে তাদের বিশ্বস্ত লোক সংশ্লিষ্ট স্থানে থাকে। তারা প্রশ্নপত্রের খসড়া কপি প্রিন্টিং প্রেস থেকে বাইরে সরবরাহ করে। এভাবে সম্ভব না হলে পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বরত ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে প্রশ্নপত্র ফাঁস করার ব্যবস্থা করা হয়।
তৃতীয় গ্রুপটি বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞ শিক্ষক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত। যারা দ্রুত প্রশ্নগুলোর সমাধান করে উত্তর মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের কাছে পাঠায়। এছাড়া বিভিন্ন কেন্দ্রে তাদের নির্বাচিত পরীক্ষার্থীরা যেন সুবিধাজনক সিট পায় সেজন্যও গ্রুপটি বিভিন্ন কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে।
র্যাব-২ এর অপারেশন অফিসার সহকারী পুলিশ সুপার মারুফ আহমেদ জানান, শুক্রবার অডিটর নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং উত্তরপত্র পাঠানোর সব কাজই এই চক্রটি সম্পন্ন করে রেখেছিল।
এই চক্রের মূলহোতা তিনজন। এরা হলেন- মো. জাকির হোসাইন (২৪), মো. হারুন মিয়া (৩২), রাদেশ কুমার সিংহ।
র্যাব-২ কর্মকর্তা মারুফ আহমেদ বলেন, ‘অর্থ লেনদেনের বিষয়টি সমন্বয় করে জাকির। প্রশ্নোত্তর সংগ্রহের কাজ করে রাদেশ ও হারুন। বাকি ১২ জন তাদের সহযোগী যারা এসএমএসের মাধ্যমে উত্তর পাঠানো, হল ম্যানেজমেন্টে সহায়তা ও পরীক্ষার্থী সংগ্রহ করে থাকে।’
প্রতি পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে চক্রটি পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা করে নিয়ে থাকে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এর আগেও বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় একইভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে বিভিন্ন পরীক্ষার্থীদের কাছে থেকে পাঁচ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছিল।’
র্যাবের হাতে আটক এই চক্রের অন্য সদস্যরা হলেন- মো. প্রিন্স (১৯), মো. মীর মোশারফ হোসেন (৩৫), মো. আবু সাইদ (২৮), মো. আশাউদ্দৌলা (৩১), মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন (২২), মো. মোহানুর রহমান (২০), মো. হাসান (২২), ত্রিদেব চাকমা (৪২), মো. জনি (২৫), মো. নাহিদ (৩০), মো. কামরুল (২০) ও মো. বোরহান উদ্দিন(৩৮)।
চক্রটির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন র্যাব-২ কর্মকর্তা মারুফ আহমেদ।
জেআই





