প্রাইম ব্যাংকের রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংকিং শাখার প্রায় ১২০ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় অধিকতর তদন্তের স্বার্থে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যসহ ১৭ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ সোমবার সকাল ১০ টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত দুদকের চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান,কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ও কমিশনার মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
এদিকে দুদক চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের জানান, প্রাইম ব্যাংকের রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংকিং শাখার প্রায় ১২০ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ৩৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দেয়া হয়। তবে আসামিদের মধ্যে ১৭ জন কমিশনে আবেদন জানিয়েছিল কথা বলার জন্য। তাদের আবেদন বিবেচনা করে আজ কথা বলার জন্য সময় দেয়া হয়। তাদের সঙ্গে খোলা মেলা কথা হয়েছে।
আজকের আলোচনায় প্রাইম ব্যাংকের ওই শাখার প্রায় ১২০ কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়টি বেরিয়ে এসেছে। তবে টাকার পরিমান আরো বাড়তে পার বলে দুদক চেয়ারম্যান মন্তব্য করেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ মামলার প্রধান আসামি বর্তামানে কারাগারে আছেন।
এদিকে ১৭ জনের নাম প্রকাশ নিয়ে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য সাংবাদিকদের সঙ্গে লুকোচুরি করেছেন।
গত ২৮ মে দুদকের অনুমোদিত চার্জশিটভুক্ত আসামীদের মধ্যে রয়েছেন-প্রাইম ব্যাংকের দিলকুশা শাখার নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল আহমেদ ফেরদৌস ও তার স্ত্রী ফারহানা আখতার,সাবেক ম্যানেজার ইজবাহুল বার চৌধুরী,সিনিয়র নির্বাহী কর্মকর্তা মজিদ আনসারি, সিনিয়র অফিসার হুমায়ুন কবির, নিরিক্ষক অফিসার সালেহ উদ্দিন, সিনিয়র অফিসার নুরুল আমিন,সিনিয়র অফিসার আসিফুল ইসলাম, জুনিয়র অফিসার আতিকুল ইসলাম,অফিসার আশরাফুল ইসলাম, সিনিয়র অফিসার মীরান হোসেন, সিনিয়র অফিসার কামরুল ইসলাম, বৈদেশিক শাখার ভাইস প্রেসিডেন্ট নাসির উদ্দিন বালী, ভাইস প্রেসিডেন্ট জাকির হোসেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মোস্তাক হোসেন।
এছাড়া ব্যাংকের বাইরের, এসকে এন্টারপ্রাইজের মালিক মাহমুদুর ইসলাম, ইলহাম এন্টারপ্রাইজের মালিক তাসমিন শারমীন,ইজরা এশিয়ান ট্রের্ডের মালিক এরশাল্লাহ আকমল,ত্রিটেক প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. তাসনিম আলম, নিউএন এসকে এন্টারপ্রাইজের মালিক সাজেদুর রহমান, লুলু কর্নারের মালিক জাকির হোসেন,ফিরোজ ট্রেডার্সের মালিক ফিরোজ আলম, মশিয়ুর রহমান, কামরুন নাহার, এনায়েত উল্লাহ, নাজমুন নাহার, রাজিয়া জান্নাত, রতনা মাহবুব, কাওসার আলী, মাহবুব ইলাহী, জাহাঙ্গির হোসেন, শামসুল আলম, জাহিদুল, আমিরুল ইসলাম, জাকির হোসেন, আবুল হাসেম ও রুহুল আমিন প্রমুখ।
জানা যায়, ২৮ মে দুদকের নিয়মিত সভায় আসামিীদের বিরুদ্ধে দন্ডবিধি ৪০৯/৪০৮/৪৬৭/৪৭১/১০৯ ধারা ১৯৪৭ সালের র্দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২)ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪ ধারায় চার্জশীট দাখিলের অনুমতি দেয়া হয়।
এর আগে প্রায় সোয়া ২ মাস এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদনটি যাচাই বাছাইয়ের নামে সংশ্লিষ্ট শাখায় চাপা পড়েছিল।
ঢাকা, ৭ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ





