হলমার্ক কেলেংকারি মামলায় পালিয়ে বেড়ানো আসামিরা চুপিসারে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন। ইমিগ্রেশনে আসামিদের সমুদয় তথ্য দেয়া থাকলেও বৈধ-অবৈধ পথে বিভিন্ন দেশে চলে যাচ্ছেন তারা। ধরা না দেয়া আসামিরা পালিয়ে যাওয়ার তথ্য থাকলেও ব্যবস্থা নেয়ার প্রশ্নে পুলিশের কাছে অসহায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, চার্জশিটে নাম আসার পরপরই পালিয়ে গেছেন আসামি টি অ্যান্ড ব্রাদার্স নিট কম্পোজিটের মালিক তসলিম হাসান, সোনালী ব্যাংকের বরখাস্তকৃত জিএম ননীগোপাল নাথ। তসলিম গত নভেম্বরে মালয়েশিয়া পাড়ি জমান। ননীগোপাল নাথ অবৈধ পথে ভারত পাড়ি দেন ডিসেম্বরে।
এছাড়া আরও অন্তত অর্ধডজন আসামি নানা পন্থায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। কেউ বা গ্রেফতার এড়াতে লম্বা দাড়ি রেখে ধারণ করেছেন ভিন্ন বেশ। আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে দুদকের কাছে এসব তথ্য থাকলেও করতে পারছে না কিছুই। বিশেষ করে চার্জশিট দাখিলের পর আদালতের নির্দেশে গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলের দায়িত্ব এখন পুলিশের। কিন্তু আসামি গ্রেফতারে পুলিশের উদাসীনতা পালিয়ে থাকা কিংবা আÍগোপনে যাওয়ায় সহায়ক হচ্ছে।
হলমার্ক কেলেঙ্কারি মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত একজন কর্মকর্তা জানান, চার্জশিট দাখিলের পরপরই ইমিগ্রেশন পুলিশকে পলাতক আসামিদের নাম-ঠিকানা, ফোন নম্বর দিয়ে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে দুদক। তবু আসামিরা কিভাবে দেশত্যাগ করতে পারে! দুদকের কাছে সব তথ্য থাকলেও পুলিশের ভ‚মিকার কাছে অনেকটাই অসহায়।
সূত্র মতে, দেশের সর্ববৃহৎ ঋণ জালিয়াতির (১৬৫৮ কোটি ২৬ লাখ ৮,৫৭১ টাকা) ১১ মামলা এখন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন। গত বছরের ৬ অক্টোবর ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে মামলাগুলোর চার্জশিট দাখিল করে দুদক। আসামিদের মধ্যে ৮ জন কারাগারে রয়েছেন।
দু’জন শর্ত সাপেক্ষে জামিনে রয়েছেন। পলাতক রয়েছেন ১৫ জন। পলাতক আসামিরা হলেনÑ ম্যাক্স স্পিনিং মিলসের কথিত মালিক মীর জাকারিয়া, সেঞ্চুরি ইন্টারন্যাশনালের মালিক মোঃ জিয়াউর রহমান, সাভার তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন সরকার, সোনালী ব্যাংকের বরখাস্তকৃত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ হুমায়ুন কবির, এজিএম এজাজ আহমেদ, এজিএম মোঃ সাইফুল হাসান, এক্সিকিউটিভ অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল মতিন, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মাইনুল হক, জেনারেল ম্যানেজার ননীগোপাল নাথ, এজিএম কামরুল হোসেন খান, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার মেহেরুন্নেসা মেরী, স্টার স্পিনিং মিলসের মালিক মোঃ আঃ বাছির, অ্যাপারেল এন্টারপ্রাইজের মালিক মোঃ শহিদুল ইসলাম, টি অ্যান্ড ব্রাদার্স নিট কম্পোজিট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তসলিম হাসান এবং প্যারাগন নিট কম্পোজিটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম রাজা।
কারাগারে রয়েছেন হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ, জেনারেল ম্যানেজার তুষার আহমেদ, সোনালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম আজিজুর রহমান, জিএম শেখ আলতাফ হোসেন, জিএম মীর মহিদুর রহমান, ডিএমডি আতিকুর রহমান, ডিজিএম সফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং আনোয়ারা স্পিনিং মিলসের মালিক জাহাঙ্গীর আলম।
শর্ত সাপেক্ষে জামিনে রয়েছেন হলমার্ক গ্র“পের চেয়ারম্যান, তানভীর মাহমুদের স্ত্রী জেসমিন ইসলাম এবং নকশী নিট কম্পোজিটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মালেক।
এদিকে আসামিদের পালিয়ে যাওয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে হতাশা ব্যক্ত করেন দুদক কমিশনার মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন চপ্পু। তিনি বলেন, কে পালিয়ে গেছে বলতে পারব না। চার্জশিট দাখিলের পর বিষয়টি পুলিশের এখতিয়ারে চলে গেছে।সূত্র: যুগান্তর
[b]ঢাকা, ৩ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম)//ইএইচ[/b]





