গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারের সাবেক প্রধান কারারক্ষী রুস্তম আলী হাওলাদারকে (৫৯) গুলি করে হত্যার ঘটনায় পুলিশ তার ছোট ভাই ও মেয়ে জামাইসহ ৩ জনকে আটক করেছে।
আজ সোমবার কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের অবসর প্রস্তুতিকালীন ছুটিতে থাকা কারারক্ষী সার্জেন্ট ইন্সট্রাক্টর রুস্তম আলী হাওলাদার স্থানীয় একটি ফার্মেসী দোকানের সামনে দূর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন। দুর্বৃত্তরা গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
আটককৃতরা হলেন- নিহতের মেয়ের জামাই সোহেল রানা, নিহতের ছোট ভাই শাহ আলম ও স্থানীয় ফার্মেসির মালিক সাইফুল ইসলাম।
কোনাবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোবারক হোসেন জানান, কোনাবাড়ি নতুন বাজার থেকে কাশিমপুর কারাগার লিঙ্ক রোডে কারাগারের মুল ফটক থেকে মাত্র ২৫০ গজ দূরে একটি ঔষধের দোকানের সামনে দাড়িয়ে ছিলেন রুস্তম।
এসময় মটর সাইকেল আরোহী ২জন দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় কাশিমপুর কারাগার কর্তৃপক্ষ তাকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহম্মদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
কাশিমপুর কারাগার-১ এর ডেপুটি জেল সুপার মোঃ মমিনুল ইসলাম জানান, আজ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে খবর পাই রুস্তমকে মোটর সাইকেলে দুই জন দুর্বৃত্ত এসে গুলি করে পালিয়ে যায়।
পরে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নিহত রুস্তম কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে সার্জেন্ট ইনষ্ট্রাক্টর হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে গত ৪ নবেম্বর থেকে অবসর পুর্ব ছুটিতে যান।
তিনি আরো জানান, রুস্তম ১৯৭৪ সালের ৮ নভেম্বর চাকরিতে যোগদান করেন। এখন তিনি অবসর পূর্ব ছুটি ভোগ করছেন।
এ ঘটনার পর কারা মহাপরিদর্শক মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী হাসপাতালে নিহত রস্তমের লাশ দেখতে আসেন। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এখন পর্যন্ত এটা তদন্তনাধীন আছে। পুলিশ এবং র্যাব ওই এলাকায় বিষয়টি তদন্ত করছে। তদন্ত করার পরেই আমরা বলতে পারবো আসলে এটা জঙ্গি সম্পর্কিত কোন বিষয় না কি অন্য কোন বিষয় আছে। আমরা এই মুহূর্তে এ ব্যাপারে কোন ধারণা করতে পারছি না যে এটা কি বিষয় বা কেন তাকে হত্যা করা হয়েছে।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো: দেলোয়ার হোসেন জানান, সন্দেহভাজন হিসেবে একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তনাধীন। তদন্তের পরেই ক্লিয়ার জানা যাবে।
জয়দেবপুর থানার ওসি রেজাইল হাসান রেজা জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফার্মেসি মালিক সাইফুল ইসলাম, নিহতের মেয়ের জামাতা ঝুট ব্যবসায়ী সোহেল রানা ও নিহতের ছোট ভাই শাহ আলমকে আটক করা হয়েছে।
এমবি





