জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, ‘অনেক চার্জে উনার (নিজামীর) খালাস পাওয়ার সম্ভবনা আছে।
তারপরও কোনো চার্জে আদালত যদি তাকে সাজা দেন, তাহলে চরম দণ্ড দেবেন বলে আমি বিশ্বাস করি না।’
বুধবার দুপুরে আপিলে আসামি পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে সুপ্রিম কোর্টের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন খন্দকার মাহবুব।
তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল বক্তব্য হল জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতে ইসলামীর সদস্য হিসেবে অনেকে তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের অখণ্ডতায় বিশ্বাস করতেন।
সেই বিশ্বাস থেকে পাকিস্তান বাহিনীর যারা এখানে ছিলেন, তাদেরকে তারা নৈতিক সমর্থন দিয়েছেন, রাজনৈতিকভাবে সমর্থন দিয়েছেন।
কিন্তু নিজামীর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছিল, সেসব অভিযোগ হলো- সেখানে নির্দিষ্ট ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে খুন, ধর্ষণ এবং লুণ্ঠন। বিশেষ করে চারটি অভিযোগে তাকে (নিজামী) মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সেখানে স্পেসিফিক অকারেন্স দেওয়া আছে। সে ক্ষেত্রে আমরা বলেছি, এটা আমাদের দুর্ভাগ্য যে, এ মামলায় যারা সাক্ষ্য দিয়েছেন তাদেরকে দীর্ঘদিন ধরে সেফ হোমে রেখে প্রসিকিউশন পার্সিকিউশন করার জন্য শিখিয়ে দিয়েছেন আদালতে কী বলতে হবে।
এ কারণে যারা তদন্ত কর্মকর্তা তাদের কাছে সাক্ষীরা এক রকম বক্তব্য দিয়েছেন, আর আদালতে এসে ভিন্নভাবে কথা বলেছেন। এ থেকে প্রমাণ হয়, প্রসিকিউশন আসামিকে সাজা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সাক্ষীদেরকে শিখিয়ে-পড়িয়ে, ভয় দেখিয়ে আদালতে উপস্থাপন করেছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘তৎকালীন বাংলাদেশ পাকিস্তান আর্মির অধীনে ছিল। দেশে ভয়াবহ আর্মি আতঙ্ক ছিল।
সে আতঙ্কের সময় নিজামী সাহেব ১৯/২০ বছরের একজন সাধারণ ছাত্র ছিলেন। ওই সময় প্রতাপশালী আর্মিকে সহযোগিতা করা কিংবা তাদেরকে বলা, এটা করো, ওটা করো, পথ দেখিয়ে দেওয়া, এই কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি নিজামী সাহেবের ছিল না।
তারপরও আমরা দেখেছি চারটি চার্জে তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। প্রসিকিউশন থেকে প্রমাণ করা হয়, ৩১ মে বা ২৬ মে আল বদর গঠন করা হয়। এটা পাকিস্তানি আর্মির অধীনে করা হয়েছে। দুই চার্জে আল বদর কমান্ডার হিসেবে নিজামীকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।
যখন আল বদর হয়নি, তখন আল বদর কমান্ডার হিসেবে নিজামীকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। এটা সঠিক নয়। পরবর্তী ঘটনার সময় নিজামী ইসলামী ছাত্র সংঘের দায়িত্বে ছিলেন না।’
এসএইচ





