ঢাকার ৪ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আরিফুর রহমানের (নয়ন) বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলায় ১০ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে আসামি খালাসের অভিযোগ করেছেন ধর্ষিতা।
রোববার আইনমন্ত্রীর বরাবরে এই অভিযোগ করেছেন ধর্ষিতা সানজিদা আক্তার।
আইনমন্ত্রীর বরাবরে উত্থাপিত এই অভিযোগের বিষয়ে ধর্ষিতা ও মামলার বাদীনির সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বাদীনির দুই পাতায় কম্পিউটার কম্পোজকৃত অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত বছরের ২৫ জুলাই তিনি ঢাকার ৪ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সাইদ ইবনে মাসুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা করেন। মামলাটির নম্বর হচ্ছে ১৭০/২০১৩।
এরপর ওই বিচারকের নির্দেশেই শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শাহজাহান আলী গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। এর ভিত্তিতে বিচারক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। আসামি আত্মসমর্পন করলে তাকে জেলহাজতেও পাঠানো হয়।
এই মামলাটিতে গত ২৪ মার্চ অভিযোগ গঠনের জন্য দিন ধার্য হয়। কিন্ত আসামির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক চার্জ গঠন থেকে বিরত থাকেন।
গত ১৪ আগস্ট চার্জ শুনানির ধার্য দিনে বিচারক বাদীনির আইনজীবী অ্যাডভোকেট খায়রুল এহসান ও স্পেশাল পিপির কোনো কথা না শুনে একতরফা আসামির আইনজীবীর কথা শোনেন। শুনানি শেষে বিচারক উন্মুক্ত ট্রাইব্যুনালে কোনো আদেশ না দিয়ে পরে আদেশ দেবেন বলে এজলাস ত্যাগ করেন।
বাদীনি বিচারকের আদেশ জানার জন্য ওইদিন সন্ধ্যা অবধি ট্রাইব্যুনালে অপেক্ষা করেন। সন্ধ্যার দিকে আদেশ বিষয়ে জানতে চাইলে পরবর্তী ধার্য তারিখে আদেশ দেয়া হবে বলে জানান ওই ট্রাইব্যুনালের পেশকার। পেশকারের কথায় বাদীনি বাড়ি ফিরে যান।
বাদীনি আরও অভিযোগ করেন, ওইদিন দিবাগত রাত ৮টার দিকে অপরিচিত নম্বরের মোবাইল ফোন থেকে আসামি বাদীনিকে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে তিনি ট্রাইব্যুনাল থেকে খালাস নিয়েছেন বলে জানান। তিনি বাদীনিকে মেরে ফেলারও হুমকি দেন।
বাদীনির অভিযোগ, ওইদিন অন্যান্য যে সকল মামলার চার্জ গঠন করা হয়েছে তার সকল আদেশই উন্মুক্ত ট্রাইব্যুনালে হয়েছে। শুধু তার মামলাটিরই রাতের আাঁধারে খাসকামরায় আদেশ হয়েছে।
বাদীনির অভিযোগ, বিচারক চার্জ গঠন না করে বারবার সময় দিয়ে স্টেনোগ্রাফারের মাধ্যমে আসামির সাথে ঘুষ লেনদেনের দর কষাকষি চালিয়ে গেছেন।
বাদীনি আইনমন্ত্রীকে বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট বিচারকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সর্বশেষে বাদীনি জানান, তিনি শিগগিরই একটি সংবাদ সম্মেলন করবেন এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং রেজিস্ট্রার বরাবরেও প্রতিকারের জন্য দরখাস্ত দাখিল করবেন।
ঢাকা, ২৫আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএইচ





