আপিল বিভাগে গত বছর ১২৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে (পুরনোগুলো ধরে), যা আগের বছর ছিল ৮৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে গত আড়াই বছরে আপিল বিভাগে মামলা দায়ের, নিষ্পত্তি ও সর্বশেষ বিচারাধীন মামলার পরিসংখ্যানের তথ্য পর্যা‌লোচনায় এমন চিত্র এসেছে।
ওই পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত আপিল বিভাগে বিচারাধীন ছিল ১৩ হাজার ৮১টি মামলা, যার মধ্যে গত ছয় মাসে নিষ্পত্তি হয় ৫ হাজার ৫২৫টি।

২০১৫ সালে দায়ের হয় ৮ হাজার ৭টি মামলা, বছরটিতে ৯ হাজার ৯৯২টি মামলা নিষ্পত্তি হয়।
এর আগের বছর দায়ের হয় ৬ হাজার ৯১৯টি মামলা, আর নিষ্পত্তি হয় ৫ হাজার ৯১১টি।
গত বছরের ১৭ জানুয়ারি দেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আদালতের কর্মঘণ্টা বাড়ানো, তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত, বিচার প্রশাসনে গতিশীলতা আনতে নানা উদ্যোগ নেন বিচারপতি এস কে সিনহা।

তার ওইসব উদ্যোগের ‍সুফল মিলতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন হাই কোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মো. সাব্বির ফয়েজ। তিনি বলেন, “আদালতের কর্মঘণ্টা বাড়ানোসহ দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর সাত মাসে প্রধান বিচারপতির নেওয়া নানা ইতিবাচক উদ্যোগ ও বিচারপতিদের নিরলস পরিশ্রমের ফলে আপিল বিভাগে মামলা নিষ্পত্তির হার ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ভবিষ্যতে এ হার আরও বাড়বে বলে আশা করছি।”

চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতেও প্রধান বিচারপতি সিনহা বলেছিলেন, “প্র্যাকটিস ডিরেকশন ইস্যু, বিভিন্ন উদ্যোগ এবং সুপ্রিম কোর্টের নিরবিচ্ছিন্ন মনিটরিংয়ের ফলে বিচার কাজে ব্যয়িত কর্মঘণ্টা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে মামলা নিষ্পত্তির হার বেড়েছে।”

বাণীতে প্রধান বিচারপতি আপিল বিভাগ, হাই কোর্ট বিভাগ ও দেশের বিভিন্ন আদালতে মামলা নিষ্পত্তির শতকরা হারও তুলে ধরেন।

বর্তমানে আপিল বিভাগে নয়জন বিচারপতি রয়েছেন। দুটি বেঞ্চ নিয়মিত বসছে, যার একটিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা, অন্য বেঞ্চের নেতৃত্বে আছেন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা।
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে পাওয়া ওই পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০১৪ সালের শুরুতে আপিল বিভাগে মামলা ছিল ১৪ হাজার ৩৩৮টি। ওই বছর আপিল আদালতে দায়ের হয় ৬ হাজার ৯১৯টি মামলা।

এ হিসেবে মোট মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় ২১ হাজার ২৫৭টি, যার মধ্যে ২০১৪ সালে নিষ্পত্তি হয় ৫ হাজার ৯১১টি মামলা। বছর শেষে বিচারাধীন ছিল ১৫ হাজার ৩৪৬টি মামলা।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিচারাধীন ১৫ হাজার ৩৪৬ মামলা নিয়ে ২০১৫ সাল শুরু হয়। বছরটিতে দায়ের হয় আরও ৮ হাজার ৭টি মামলা,

এ হিসেবে মোট মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় ২৩ হাজার ৩৫৩টি। আর ওই বছরই ৯ হাজার ৯৯২টি মামলা নিষ্পত্তি হয়।

পরিসংখ্যানের তথ্যে দেখা যায়, বিচারাধীন ১৩ হাজার ৩৬১টি মামলা নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের ২০১৬ সালের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত যুক্ত হয় ২ হাজার ৪৮৩টি মামলা। সব মিলিয়ে মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৮৪৪টিতে, যার মধ্যে প্রথম তিন মাসে নিষ্পত্তি হয় ৩ হাজার ৫২টি। আর বিচারাধীন থাকে ১২ হাজার ৭৯২টি।

এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত পরের তিন মাসের পরিসংখ্যান বলছে, এই সময়ে দায়ের হওয়া ২ হাজার ৭৬২টি মামলা নিয়ে মোট মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৫৫৪টি। এর মধ্যে ২ হাজার ৪৭৩টি নিষ্পত্তি হয়ে জুনের শেষে ১৩ হাজার ৮১টি মামলা বিচারাধীন থাকে।

 

এমএনজে