বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাতে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গ্রেপ্তাররা হলেন- তাসলিমা আক্তার (১৮), সৌদি প্রবাসী আরাফাত হোসেন (২২), মো. সাকিব খান (২২), নয়ন মিয়া (২২), নুরুজ্জামান শ্যামল (২০) ও রাকিব মিয়া (২২)।

গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ ও টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় একাধিক অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যায় ব্যবহৃত একটি ইজিবাইকও উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিবির তথ্যমতে, নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা তাসলিমা আক্তারের সঙ্গে ভিকটিম আল আদিয়াত সায়রের (১৭) প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে ভিকটিম গোপনে তাসলিমার আপত্তিকর ছবি ধারণ করে তা কয়েকজন বন্ধুর কাছে ছড়িয়ে দেয়।

পরে তাসলিমার সঙ্গে সৌদি প্রবাসী আরাফাত হোসেনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি জানার পর আরাফাত দেশে ফিরে এসে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী আরাফাত গত ২ নভেম্বর দেশে ফেরেন। পরদিন ৩ নভেম্বর তাসলিমা ভিকটিমকে নিয়ে গাজীপুরের উলুখোলা এলাকায় গেলে ইজিবাইকচালক রাকিবসহ অন্যান্য সহযোগীরা তাদের রিসিভ করে।

রাত আনুমানিক ৮টার দিকে গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) পূবাইল থানাধীন বিন্দান রোড এলাকায় পৌঁছালে ভিকটিমকে ইজিবাইকে তুলে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে আসামিরা মরদেহ ঘোড়াশাল-টঙ্গী মহাসড়কের পাশে ফেলে পালিয়ে যায়।

ডিসি তালেবুর রহমান জানান, বাদী মিজানুর রহমান আদালতে নালিশি পিটিশন দাখিল করলে আদালতের নির্দেশে কদমতলী থানায় মামলাটি রুজু করা হয়। পরে গত ২৬ নভেম্বর ডিবি ওয়ারী বিভাগ মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। প্রযুক্তিগত সহায়তায় ৩১ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রথমে তাসলিমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এমএম