শনিবার (১৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে উত্তর পালং শাবনূর মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ভুক্তভোগী ওই নারীকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর পৌরের উত্তর পালং শাবনূর মার্কেট এলাকার বাসিন্দা মনি আক্তার নামের ওই নারীর স্বামী প্রবাসে থাকেন। সম্প্রতি মনি আক্তারের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ তৈরি হয় প্রতিবেশী দেলোয়ার দপ্তরি ও তার পরিবারের। শনিবার সকালে ওই নারীকে আপোষ মীমাংসার জন্য বাড়িতে ডেকে নেয় দেলোয়ার দপ্তরির পরিবারের সদস্যরা। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হলে মনি আক্তারকে মারধর করে চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠে দেলোয়ার দপ্তরির ছেলে পলক, মেয়ে মৌসুমী, স্ত্রী আমেনা ও আত্মীয় রহিমার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, মারধর ও চুল কাটা শেষে অভিযুক্তরা মনি আক্তারকে মাদক বিক্রির অভিযোগ তুলে মুখে আলকাতরা ও গলায় জুতার মালা পরিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন।

ভুক্তভোগী নারী মনি আক্তার বলেন, ‘আমি কোনো মাদক বিক্রি করি না। আপনারা চাইলে মোবাইল চেক করে দেখতে পারেন। যদি কোনো প্রমাণ পান, তাহলে যেই শাস্তি হবে তা মেনে নেবো। দেলোয়ার দপ্তরি আমার থেকে টাকা নিয়েছে, সেই প্রমাণ হিসেবে সে নিজেই ঢাকা গিয়ে আমাকে সই করে স্ট্যাম্প দিয়ে এসেছে। এখন সেই স্ট্যাম্প ফেরত নিতে তার পরিবারের লোকজন নিয়ে আমাকে মারধর করেছে। হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়েছে, চুল কেটে মুখে আলকাতরা মেখে বেঁধে রেখেছে। আমি কোনো অন্যায় করলে তারা আইনের আশ্রয় নিতো। কিন্তু এভাবে কেন আমাকে মারা হলো। আমি ওদের বিচার চাই।’

দেলোয়ার দপ্তরির মেয়ে মৌসুমী আক্তার বলেন, ‘আমরা মনি আক্তারকে ছোট থেকেই কাকি বলে ডাকি। সে আমার আব্বুকে ভাই ডেকে পরকীয়া করেছে। আজ তাকে আপোষে ডেকেছিলাম কিন্তু সে গালাগালি করায় মহিলাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে।’

তাকে কেন বেঁধে রাখা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘বাবাকে মিথ্যা মামলা দিয়েছে তাই তাকে বেঁধে রেখেছি। সে মাদক বিক্রি করে, তাকে সার্চ করলে মাদক পাওয়া যাবে।‘

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ‘ওই নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। ওনি সুস্থ হয়ে লিখিত অভিযোগ করলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

এমএম