জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জামিন দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে আদেশের জন্য আজ বৃহস্পতিবার দিন রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। তবে তার আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন দেখবেন আদালত।

আপিল বিভাগে মামলাটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় ৭ নম্বরে রাখা হয়েছে। এ আদেশকে কেন্দ্র করে আজ সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এ সংক্রান্ত শুনানি হবে।

জামিন পাবেন এমন প্রত্যাশা নিয়ে আজ আদালতের ভেতরে-বাইরে ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা। জাতীয়তাবাদী আইনজীবীদের আদালতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশ না দিলেও মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা আদালতের বাইরে অবস্থান নেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

কোর্টের আশপাশে শোডাউনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধরপাকড় করতে পারে এমন শঙ্কাও আছে তাদের। তাই কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। যে কোনো পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে মোকাবেলার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। জামিন না দিলে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ করার চিন্তাভাবনা রয়েছে নেতাকর্মীদের।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জানান, চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে মোট ৩৭টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৩৫টি মামলায় জামিন হয়েছে। আজ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার শুনানি। এ মামলায় জামিন হলে একই বিবেচনায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় জামিন পাবেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। এরপর নতুন করে মামলা না হলে তার মুক্তিতে কোনো বাধা থাকবে না।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, চেয়ারপারসনের মামলার জামিনের শুনানি আজ। আশা করি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ তার স্বাস্থ্যের সঠিক রিপোর্ট আদালতে জমা দেবেন। সরকার কোনো হস্তক্ষেপ না করলে চেয়ারপারসন আদালতে ন্যায়বিচার পাবেন।

খালেদা জিয়ার মামলার আইনজীবী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান খোন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ মানবিক কারণে খালেদা জিয়াকে জামিন দেবে বলে আমরা আশাবাদী। এ মামলায় খালেদা জিয়ার কোনো ভূমিকা নেই। তারপরও আমরা ওদিকে না গিয়ে শুধু মানবিক কারণে তার জামিন চেয়েছি। আশা করছি, সর্বোচ্চ আদালত জামিন দেবেন।

তিনি বলেন, যে মামলায় তাকে সাজা দেয়া হয়েছে সেই মামলায় তার জামিন হওয়া উচিত ছিল। যদি আজ জামিন না দেয় তাহলে বুঝতে হবে, সরকারের প্রভাব বা রাজনৈতিক কারণে তার মুক্তি মিলছে না। মানবিক কারণেও তাকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে না। তবে আমি সব সময়ই বলে আসছি, কোনো রাজনৈতিক মামলার কারণে খালেদা জিয়াকে বন্দি করা হয়নি। তিনি আজ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বন্দি। তাই আইনের প্রক্রিয়া যতই আমরা বলি না কেন, সরকারের সদিচ্ছা ছাড়া তাকে মুক্ত করা যাবে না।

সূত্র জানায়, আজ আদালত থেকে নেতিবাচক কোনো আদেশ এলে দ্রুত দলের নীতিনির্ধারকরা বসে পরবর্তী করণীয় চূড়ান্ত করবেন। সর্বশেষ স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত তারা অপেক্ষায় থাকবেন। কোনো কারণে জামিন না হলে সরকারের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে প্রভাবের অভিযোগ এনে ওইদিনই সারা দেশে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি দেয়া হবে।

এমএম