মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচারাধীন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের পক্ষে যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন অব্যাহত রয়েছে। বুধবার পর্যন্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন মুলতবি করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন বুধবার পর্যন্ত মুলতবি করেন। আজহারের পক্ষে তৃতীয় দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন তার আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার।
গত ২৭ আগস্ট থেকে শুরু করে আরও দুই কার্যদিবস যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন তার অপর আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মুনির।
গত ১৮ আগস্ট থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত ৬ কার্যদিবসে আজহারের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ও তাপস কান্তি বল।
আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হবে। পরে আইন অনুসারে রায়ের দিন ধার্য করবেন ট্রাইব্যুনাল।
গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে গত ৬ জুলাই পর্যন্ত আজহারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) এম ইদ্রিস আলীসহ রাষ্ট্রপক্ষের ১৯ জন সাক্ষী।
গত বছরের ৫ ডিসেম্বর আজহারের বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর একেএম সাইফুল ইসলাম।
এর আগে ১২ নভেম্বর এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে গণহত্যা, হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ, নির্যাতন, আটক, অপহরণ, গুরুতর জখম ও অগ্নিসংযোগের ৬টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটিতেও (উর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) অভিযুক্ত হয়েছেন তিনি।
২৫ জুলাই এটিএম আজহারুলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। ১৮ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগটি দাখিল করেন প্রসিকিউটর একেএম সাইফুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর নুরজাহান বেগম মুক্তা।
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল-১ এর আদেশে ২০১২ সালের ২২ আগস্ট আজহারের ঢাকার মগবাজারের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় এটিএম আজহারুল ইসলামকে।
ঢাকা, কেএ, ০২ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম





