কৌশলে পর্যায় ক্রমে ৫টি ব্যাংক থেকে ঋনের নামে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে কথিত ব্যবসায়ী ওয়াহিদুর রহমান। শিগগিরই দুদকের অনুসন্ধানী টিম এ বিষয়ে তথ্য উপাত্ত চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ ওই ৫ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চিঠি পাঠাচ্ছেন।
আজ রোববার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দুদকের উপ-পরিচালক মো. জুলফিকার আলীর নেতৃত্বে সহকারী পরিচালক মো. মশিউর রহমান ও উপ-সহকারী পরিচালক ওমর ফারুকের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিতি সভায় তথ্য উপাত্ত চেয়ে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।
সম্বাভাব্য চিঠি প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক , ইসলামিক আইসিবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, সিটি ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি।
জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের এক তদন্ত প্রতিবেদনে কথিত ব্যবসায়ি ওয়াহিদুর রহমান নামে-বেনামে ঋণ নিয়ে পালিয়ে যান। এর মধ্যে বেসিক ব্যাংকের ৭৬৭ কোটি, ইসলামিক আইসিবি ব্যাংকের ১০০ কোটি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ১২৪ কোটি, সিটি ব্যাংকের ৬ কোটি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিএলসির কাছ থেকে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা রয়েছে।
এ ঘটনায় গত ১৫ জুলাই মাসে জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পর গত ২৪ সেপ্টেম্বর দুদক ৩ সদস্যের একটি অনুসন্ধানী টিম গঠন করে।
জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বেরিয়ে এসেছে ওই প্রতারক ব্যাবসায়িদের দেয়া ঋণ আদায় হওয়ার কোনো সম্ভাবনা খুব কম।
এমধ্যে সাবেক ওরিয়েন্টাল ব্যাংক বর্তমানে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের বংশাল শাখা থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা নেয়া হয়; ফিয়াজ এন্টারপ্রাইজ, পলাশ এন্টারপ্রাইজ, রত এন্টারপ্রাইজ, মাসুদ ট্রেডিং, ইউনাইটেড ট্রেডিং, অটো ডিফাইন, ওয়েস্টার্ন গ্রিল, ডেং ডি লায়ন রেস্টুরেন্ট, ফিয়াজ ট্রেডিং ও আলী ট্রেডিংএর নামে ঋণ নেয়। ওই সব প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে দেখানো হয়; সালাহউদ্দিন আহমেদ, তাজউদ্দিন আহমেদ, আলী আশরাফ, আশফাক হোসেনকে।
বেসিক ব্যাংকের দিলকুশা, শান্তিনগর এবং গুলশান শাখা থেকে ঋণ নিয়েছেন ৭৬৭ কোটি টাকা। ওয়াহিদুর রহমানের অটো ডিফাইন নামের শান্তি নগর শাখা থেকে ২৫০ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার রে সিআর এন্টারপ্রাইজের নামে হস্তান্তর করেন।
মা টেক্স নামে বেসিক ব্যাংক গুলশান শাখা থেকে ৮০ কোটি টাকা। নিউ অটো ডিফাইনের নামে শান্তিনগর শাখা থেকে ৯০ কোটি টাকা, ফিয়াজ এন্টার প্রাইজের নামে শান্ত্গির শাখা থেকে ১৫২ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে এখন খেলাপি হয়েছে।
সিটি ব্যাংক হলোগ্রাম ইন্ডাস্ট্রিজের নামে ঋণ ৬ কোটি ওই প্রতারক ওয়াহিদুর রহমানের কর্মচারী এ বি রাশেদের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে উত্তোলন করেন।
কৃষি ব্যাংকের বনানী শাখা থেকে ওয়াহিদুর রহমানের ১২৪ কোটি টাকা ঋণ নেয়। এর মধ্যে ফিয়াজ এন্টারপ্রাইজের নামে ৫৪ কোটি ৫৮ লাখ, অটো ডিফাইনের নামে ৩৬ কোটি ৪৭ লাখ এবং ফিয়াজ ট্রেডিংয়ের নামে ৩২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ।ফিয়াজ গ্রুপের নামে ব্যাংক কোম্পানি আইন লঙ্ঘন করে ১৫২ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করা হয়। ২০১১ সালের ২০ এপ্রিলে মেয়াদ শেষ হয়েছে। অথচ ঋণটি পরিশোধিত হয়নি এবং নবায়নও করা হয়নি।
লিজিং প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি থেকে ওয়াহিদুর রহমান ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ঋণ নেয়। এর মধ্যে অটো ডিফাইনের নামে ১ কোটি ৯৩ লাখ ও বাকি ৪৭ লাখ টাকা নিজের নামে নেন।
ঢাকা, একে, ২৮ সেপ্টেম্বর. টাইমনিউজবিডি.কম,জেএ





