রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার গোড়ানে ৩৮ লাখ টাকা ছিনতাই ও খুনের ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী কাজী সিরাজুল ইসলাম(৪০)কে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ(ডিবি)।

রোববার দিনগর গভীর রাতে রাজধানীর খিলগাঁও রেলগেট এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছে ভাগের ৫ লাখ টাকার মধ্যে গচ্ছিত ৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকা উদ্ধার করতে পারলেও ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যবহৃত তিনটি বিদেশী অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

সোমবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার ও ডিএমপি’র মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম।

গোয়েন্দা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

জিজ্ঞাসাবাদে সিরাজুল জানায়, গত ৪ সেপ্টেম্বরছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এর ৮ দিন আগে তার নিজ বাসা তারাবাগের বাসাতেই ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করা হয়।

ডিএমপি’র যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, নিহত সায়মনের পিতা ইসমাইল হোসেন মানি এক্সচেঞ্জের ব্যবসা করতেন। তিনি প্রতি বৃহস্পতিবার টাকা উত্তোলন করতেন। আর প্রতি রোববার টাকা জমা দিতেন। গ্রেফতারকৃত সিরাজুল ইসলামের বাড়ি নিহত সায়মনদের বাড়ির পাশেই হওয়ায় মানি এক্সচেঞ্জের ব্যবসার টাকা উত্তোলন ও জমা দেয়ার সময়টা জানতো সিরাজুল। সিরাজুলের বাসায় বসেই ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৪ সেপ্টেম্বর ছিনতাইকারীরা হামলা চালানো হয়। সহজে টাকা দিতে অসম্মত হওয়ায় গুলি চালায় ছিনতাইকারীরা।

মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, ছিনতাইকালে ৩টি বিদেশী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। গ্রেফতারকৃত সিরাজুলের মোবাইলে তোলা অস্ত্রের ছবি দেখে তা নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে অস্ত্রগুলো এখন পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারিনি গোয়েন্দা পুলিশ।

সিরাজুল ছিনতাই বাবদ ৫ লাখ টাকা ভাগে পায়। এরমধ্যে ৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার ও বাকি ৪ জন আসামীকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।

ঘটনার একদিন পর মামলা হয়। মামলার প্রেক্ষিতে ঘটনার তদন্ত ভার নেয় ডিবি পুলিশ। এর পর ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনার সময় শাহিন নামে একজন গুলি চালিয়েছিল বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে বাকি আরও তিনজন ছিনতাই ও খুনের ঘটনার সময় জড়িত ছিল। তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে তাদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

সম্প্রতি পরপর কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ছিনতাইকালে খুনের মতো ঘটনা ঘটেছে। এসব কারণে পুলিশি নজরদারী দুর্বল বলে মনে হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, ছিনতাই ও খুনের ঘটনায় খিলগাও থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম শেখকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশে কোনো টপ টেরর নেই। কেউ জেলে, কেউ দেশের বাইরে। যেসব দেশ সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত সেসব দেশেও অপরাধ সংঘটিত হয় বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ছোট ছোট ছিনতাইকারী, মহল্লার পলিটিক্যাল বখাটে ছেলেরা সম্প্রতি সংঘঠিত ছিনতাই ও খুনের ঘটনার সাথে জড়িত। ছিনতাইকালে কোনো ধরণের রিস্ক না নিয়ে তারা সরাসরি গুলি চালাচ্ছে।

ডিবি পুলিশ যেকোনো অপরাধকর্মের তদন্তে সর্বাত্মক চেষ্টা চালায় দাবি করে তিনি বলেন, আদালতের কাছে এঘটনায় জড়িত সিরাজুল ইসলামকে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা, জেইউ, ৮ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএইচ