নাসির গ্রুপের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ পুনরায় অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। শিগগিরই এ বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য দুদকের একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে।
গত ২১ জানুয়ারি দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান 'নাসির গ্রুপের' বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ পুনরায় অনুসন্ধানের এ নির্দেশ দিয়েছেন।
জানা যায়, দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রফিকুল ইসলাম নোটিশ পাঠিয়ে গত ১৫ ডিসেম্বর নাসির উদ্দিন বিশ্বাসসহ তার প্রতিষ্ঠানের ১০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকে তলব করা হয়। কিন্তু তারা দুদকে হাজির হননি।
এমনকি উল্টা দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তাকে হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে দুদক কর্মকর্তারা হুমকি দেয়ার অভিযোগ এবং জালিয়াতির তথ্য উপাত্ত নষ্টের শঙ্কায় নাসির গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করা হয়েছে।
জানা যায়, আগে দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রফিকুল ইসলাম অনুসন্ধান করে নাসির গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রায় ৮০ কোটি টাকা বিদেশে অর্থ পাচারের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগের তথ্য উপাত্ত পেয়েছেন।
তিনি ইতোমধ্যে নাসির গ্রুপের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন বিশ্বাসসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে মামলা দায়েরের সুপারিশসহ প্রতিবেদন দুদকের সংশ্লিষ্ট দফতরে জমা দেন।
তার প্রতিবেদনে নাসির গ্রুপের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন বিশ্বাস, জিএম (আমদানি) মো. আলফাজ উদ্দিন, জিএম (মার্কেটিং এ্যান্ড সেলস) মো. শামীম আহম্মেদ, জিএম (ফাইন্যান্স ও হিসাব) মো. সিদ্দিকুর রহমান, এজিএম (ক্রয়) মো. মোবাইদুল ইসলাম, ক্যাশিয়ার মো. শামীম, এজে মানি চেঞ্জারের মালিক সাইদুল ইসলাম, কর্মচারী মো. এমদাদুল, রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনের সোহাগ কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীতে ২ নম্বর ভবনের ১১০২ নম্বর ফ্ল্যাটের আদিল আহমেদ ও একই ফ্ল্যাটের ফিরোজ আহমেদকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে নাসির গ্রুপের প্রতিটি ইন্ডাস্ট্রিজের নামে আমদানি করা পণ্যের এলসির বিপরীতে বিপুল পরিমাণ মার্কিন ডলার হুন্ডির মাধ্যমে পাচার হয়েছে। নাসির গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রায় ৮০ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি ও তা অবৈধভাবে পাচারের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সুইজারল্যান্ড, হংকং ও চীনে ৮৫ হাজার মার্কিন ডলার পাচারের প্রমাণ রয়েছে।
একে/ইআর





