শিগগিরই ঋণ দেয়ার নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট এবং অবৈধ সম্পদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাচ্ছেন সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের ১০ সদস্য।
ভাগ্যবান সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ১০ সদস্যরা হলেন, সাবেক চেয়ারম্যান কাজী বাহারুল ইসলাম, সুভাষ সিংহ রায়, মো. আনোয়ার শহিদ, এএসএম নাইম, কেএম জামান রোমেল, কাশেম হুমায়ন, সদস্য সত্যেনন্দ্র চন্দ্র, জান্নাত আরা হেনরি, শহীদ উল্লাহ মিয়া ও সাইমুম সরোয়ার কমল।
গত বছর দুদকে এই ১০ পরিচালক  তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বিবরণী জমা দিয়েছেন। কিন্তু দুদকের সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানী ও তদন্ত কর্মকর্তারা অনেক চেষ্টা করেও নাকি সোনালী ব্যাংকের অস্বাভাবিক ক্ষমতাধর  ওই ১০ পরিচালকের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন কিংবা জ্ঞাত আয় বর্হিভূত  কোনো সম্পদের গন্ধ খুজেঁ পাননি।
অথচ সোনালী ব্যাংকের পরিচালকসহ এই ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মোটা অংকের কমিশন নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। আর পরিচালনা পর্ষদের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই কমিশন নেয়ার নামে অবৈধ  আর্থিক সুযোগ সুবিধা গ্রহণের বিষয়ে হলমার্ক গ্রুপের এমডি তানভীর আহমেদ একাধিক বার মুখ খুলেছেন। তিনি দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তাদেরও বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। এমনকি তানভীর আহমেদ ১৬৪ ধারায় আদালতে তার জবান বন্দিতেও  পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে  কমিশন নেয়ার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন, যা মিডিয়ায় বিভিন্ন শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে।
নাম না প্রকাশের শর্তে দুদকের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সোনালী ব্যাংকের ১০ পরিচালককেই  দায়মুক্তি দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। গত কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সোনালী ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির মহোৎসব হয়েছে। হলমার্ক গ্রুপ নয়, নাম জানা-অজানা অনেক ছোট- বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি প্যাড সর্বস্ব শতাধিক প্রতিষ্ঠানের নামে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ মঞ্জুরের ঘটনায় সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত এমন অভিযোগও উঠেছে।
এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদন, অডিট রিপোর্ট এবং দুদকের তদন্ত টিমের প্রাথমিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনেও  শত শত কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির বিষয়টি বেরিয়ে এসেছে।
যার ফলে গত বছর দুদকের অনুসন্ধানী কর্মকর্তারা কয়েক দফায় ওই ১০ পরিচালকসহ ৩১ জনের সম্পদ বিবরণী চেয়ে নোটিশ পাঠান।
তবে ইদানিং দুদকের নীতি নির্ধারণী মহলের দুর্নীতি বিরোধী নানা কার্যক্রম এবং দুদকের একাধিক কর্মকর্তাকে হয়রাণিমূলক বদলির পর আবার বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানা এবং  হঠাৎ করে বদলির বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে মিডিয়া কর্মীদের তথ্য দেয়ার বিষয়ে কড়াকড়ির কারণে মিডিয়াসহ সংশ্লিষ্ট মহলেও বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এদিকে গত এপ্রিল মাসে দুদক সচিব মো. ফয়জুর রহমান চৌধুরী মাসিক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা সম্পদের বিবরণী জমা দিয়েছে। তাদের সম্পদের বিষয়টি নিয়ে যাচাই বাছাই করা হচ্ছে।  
দুদকের চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান বলেন, সোনালী ব্যাংকের  ১০ পরিচালকের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করে  কোনো অবৈধ সম্পদ  না পাওয়া গেলে, অবশ্যই তাদেরকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন,সোনালী ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদের জড়িত থাকার কোনো তথ্য প্রমাণ নেই। বোর্ডের অনুমতি ছাড়াই এই কান্ড ঘটেছে। এরপরও  দুদক তাদের সম্পদ অনুসন্ধান করে কোনো অবৈধ সম্পদের  খোঁজ পাচ্ছে না।
[b]ঢাকা, একে, ২৬ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ

[/b]