রাজধানীর বাড্ডায় তুরাগ পরিবহনের বাসে উত্তরা ইউনিভার্সিটির ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টায় অভিযুক্ত তিন জনকে রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। বাসের চালক ও সহকারীসহ গ্রেপ্তার তিন জনের প্রত্যেককে তিনদিন করে রিমান্ড দেয়া হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে তাদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাতদিন করে রিমান্ড চান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক তাপস।

শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম গোলাম নবী আসামিদের তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সোমবার রাতে রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন বাসের চালক রোমান, কন্ডাক্টর মনির ও হেলপার নয়ন। 

এর আগে এদিন বিকেলে ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দলনেতা পারভেজ হোসেন অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন।

তিনি বলেন, শুধু গ্রেপ্তার নয়, আমাদের দাবি অপরাধী সবাইকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। গেলো শনিবার দুপুরে উত্তরা ৬নং সেক্টরে অবস্থিত উত্তরা ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে আসার জন্য উত্তর বাড্ডা থেকে তুরাগ পরিবহনের একটি বাসে উঠেন ওই ছাত্রী। এসময় বাসে যাত্রী ছিলেন মাত্র ৭ থেকে ৮ জন।

নাটকীয়ভাবে হেলপার বাস সামনে যাবে না বলে যাত্রীদের নামাতে থাকে এবং নতুন কোনো যাত্রী উঠানো বন্ধ রাখে। এতে ওই ছাত্রীর সন্দেহ হলে তিনি বাস থেকে নামতে চেষ্টা করেন। কিন্তু বাসের হেলপার দরজা বন্ধ করে দেয় এবং কন্ডাক্টর তার হাত ধরে টানতে শুরু করে।

কন্ডাক্টর ও হেলপারের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে চলন্ত গাড়ি থেকে লাফিয়ে পড়েন মেয়েটি। তিনি অন্য একটি বাসে চড়ে ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে এসে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানালে কর্তৃপক্ষ আশানুরূপ কোনো সমাধান দেননি।

পরে ওই ছাত্রীর সহপাঠীরা বিষয়টি জেনে আইনি সহযোগিতার জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন। কোনোভাবে সুরাহা না হওয়ায় রোববার দুপুরে তারা ওই বাস, বাসের হেলপার ও কন্ডাক্টরকে আটকের দাবিতে রাস্তায় মানববন্ধন করে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তুরাগ পরিবহনের অর্ধশতাধিক বাস আটকে রাখে।

পরে রোববার বিকেলে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা তিনজনের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা করছেন ভুক্তভোগী ছাত্রীর স্বামী।

এমআর