বহুল আলোচিত শাজনীন হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া আসামিদের আপিলের শুনানি শেষ হয়েছে। যেকোনো দিন রায় ঘোষণা করবেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
আজ বুধবার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন—বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসাইন হায়দার।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, বাদীপক্ষে সাবেক বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও আপিলকারীদের পক্ষে অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন অংশ নেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ট্রান্সকম গ্রুপের কর্ণধার লতিফুর রহমানের মেয়ে স্কলাস্টিকা স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী শাজনীন তাসনিম রহমান ১৯৯৮ সালের ২৩ এপ্রিল রাতে গুলশানে নিজের বাড়িতে খুন হয়।
এ মামলায় ২০০৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক কাজী রহমতউল্লাহ শাজনীনকে ধর্ষণ ও খুনের পরিকল্পনা এবং সহযোগিতার দায়ে তাদের বাড়ির সংস্কারকাজের দায়িত্বে নিয়োজিত ঠিকাদার সৈয়দ সাজ্জাদ মইনুদ্দিন হাসানসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন।
অপর পাঁচ আসামি হলেন—গৃহপরিচারক শহীদুল ইসলাম (শহীদ), হাসানের সহকারী বাদল, গৃহপরিচারিকা দুই বোন এস্তেমা খাতুন (মিনু) ও পারভীন এবং কাঠমিস্ত্রি শনিরাম মণ্ডল।
আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য (ডেথ রেফারেন্স) ওই বছরই হাইকোর্টে আসে। এর পরই দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে আসামিপক্ষ।
ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের ওপর শুনানি শেষে ২০০৬ সালের ১০ জুলাই হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন। ফাঁসির আদেশ পাওয়া অপর আসামি শনিরাম মণ্ডল খালাস পান।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন (লিভ টু আপিল) করেন এ চার আসামি। ২০০৯ সালের ২৬ এপ্রিল এই চার আসামির লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ। মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া অপর আসামি শহীদুল জেল আপিল করেন। সাত বছর পর ২৯ মার্চ আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়ে বুধবার শেষ হয়।
এমআর





